প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 24 November 2024 23:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রেমিকার প্রতিবেশী। নানা ফন্দি এঁটেও পথের কাঁটাকে কোনওভাবেই সরানো যাচ্ছিল না। শেষমেশ অনেক ভেবেচিন্তে উপায় বেরলেও তা যে এভাবে বুমেরাং হয়ে যাবে তা কে জানত! বিস্ফোরক ভরা হেয়ার ড্রায়ার পাঠিয়ে শত্রুকে মারার পরিকল্পনা করেছিল এক ব্যক্তি। কিন্তু পরিকল্পনায় জল ঢেলে নিজের জীবনেই বড় বিপদ ডেকে আনলেন প্রেমিকা। গুরুতর জখম হয়ে নিজেই ভর্তি হলেন হাসপাতালে।
কর্নাটকের বাগালকোট জেলার ইলকাল থানা এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তর নাম সিদ্দাপ্পা শীলাবন্ত। তিনি বাগালকোটের কপ্পল জেলার কুর্তাগেরি গ্রামের বাসিন্দা। প্রেমিকা বাসবরাজেশ্বরীর প্রতিবেশী শশীকলাকে প্রাণে মারতেই গত ১৫ নভেম্বর বিস্ফোরক ভরা হেয়ার ড্রায়ার পাঠিয়েছিল অভিযুক্ত। ইতিমধ্যে প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কেন এমন পরিকল্পনা?
পুলিশ জানিয়েছে, বাসবরাজেশ্বরী এবং শশীকলা– দুজনেই সেনাকর্মীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু দুজনের স্বামীই মারা যান। এরপর এক অনুষ্ঠানে দু’জনের দেখা, সেখান থেকেই পরিচয়। এরপর দু’জনেই পাশাপাশি বাড়িতে থাকা শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই শীলাবন্তের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় বাসবরাজেশ্বরীর।
অভিযোগ, বেশ কয়েকবছর ধরে সম্পর্ক থাকলেও নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছিলেন শশীকলা। বাসবরাজেশ্বরীকে শীলাবন্তর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার জন্য তিনি চাপ দিতেন বলে অভিযোগ। দিন দিন পরিস্থিতি বেগতিক দেখেই এমন পরিকল্পনা করে বসে সে।
প্ল্যান ভেস্তে গেল যে কারণে
জেরার মুখে অভিযুক্ত সিদাপ্পা জানিয়েছে, প্যাকেজটি যখন বাড়িতে এসেছিল, সে সময় ছিলেন না শশীকলা। পার্সেলটি বাসবরাজেশ্বরীকেই নিতে বলেন। কিন্তু সমস্যা হল প্রেমিক যে এমন প্ল্যান করছে তা জানা ছিল না প্রেমিকার। খুশি মনে সেটি নিয়েও নেয় সে। কিন্তু পরদিন আগ্রহের সঙ্গে সেটি খুলতেই ঘটে বিস্ফোরণ। যার জেরে বাসবরাজেশ্বরীর দু’হাত ঝলসে গেছে বলে খবর। স্থানীয় এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে হেয়ার ড্রায়ারে বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু হেয়ার ড্রায়ার পরীক্ষা করতেই তারা বুঝতে পারে, তার মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। বাগালকোটের পুলিশ সুপার, অমরনাথ রেড্ডি জানিয়েছেন, শীলবন্তই সেটি পাঠিয়েছিল। কিন্তু দক্ষ না হলে তো এমন করা সম্ভব নয়। অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে, সে একটি একটি গ্রানাইট সংস্থায় কাজ করে। তাই বিস্ফোরণ ঘটানোর কৌশল তার জানা। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এমন পরিকল্পনা করে সে।