এই খবরের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিক ভাবে তিনটি পর্যায় ঠিক করা হয় অভিযানের। পরিকল্পনা, কৌশলগত বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল এটি এক থেকে দেড় দিনের অভিযান হবে, কিন্তু বাস্তবে তা তিন দিন ধরে চলে। অভিযানে ছিল ছত্তীসগড়ের গারিয়াবন্দ জেলার একটি ইউনিট, সিআরপিএফের দু'টি ব্যাটালিয়ন, কোবরা বাহিনীর একটি ইউনিট এবং ওডিশার বিশেষ অপারেশন গ্রুপ (SOG)।
কুলহাদিঘাটের দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঘন জঙ্গলের কারণেই মূলত অভিযাটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। খাবার ও পানীয়ও ফুরিয়ে যায় দ্বিতীয় দিনে। তার পরেও তিন দিন ধরে সংঘর্ষ চালিয়ে যায় বাহিনী। একসময়ে মাওবাদীরা নিরাপত্তাবাহিনীর গতিবিধি নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করলেও, স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলে তাদের ঘেরাও করে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। ওডিশার SOG বাহিনীও সীমান্ত পথ আটকে দেয়, ফলে পালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল এই কুলহাদিঘাট। সেখানে সাতটি গ্রাম রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঘন বন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবের কারণে এটি মাওবাদীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল।
গ্রামবাসীরা সপ্তাহে একবার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্য নীচে নেমে আসেন, ঘোড়া ও খচ্চর ব্যবহার করে খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র পাহাড়ি গ্রামে বয়ে নিয়ে যান। এই অঞ্চলটি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বরাবরই কঠিন এলাকা ছিল।
রায়পুর রেঞ্জের আইজি অমরেশ মিশ্র বলেন, 'আমাদের বাহিনী মাত্র দেড়-দু'দিনের প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে নেমেছিল। কিন্তু বাস্তবে তিন দিন না খেয়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।'
নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন জয়ারাম রেড্ডি ওরফে চলপতি, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে মাওবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বহু সন্ত্রাসী হামলা পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে এক বিধায়কের হত্যার ঘটনাও রয়েছে। চলপতির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
এছাড়াও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গুড্ডু ওরফে জয়ারাম, যিনি মাওবাদী সংগঠনে নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজে দক্ষ ছিলেন। ছিলেন সত্যম গাওয়াদে, যিনি কানকের অঞ্চলে একাধিক হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এদের মাথার দাম মিলিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ছিল।
আইজি বলেন, 'চলপতি, গুড্ডু ও গাওয়াদের মৃত্যু মাওবাদীদের জন্য বড় ধাক্কা। এর ফলে তাদের নেটওয়ার্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভেঙে পড়বে। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে আমরা মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।'