‘বিহার রাইট টু পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর আওতায় রাজ্যের বাসিন্দারা অনলাইনে বাসিন্দা শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা শংসাপত্র জারি করেন। কিন্তু এই ঘটনায় গোটা ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন উঠেছে।

বিহারে কুকুরের নামে বাসিন্দা শংসাপত্র
শেষ আপডেট: 30 July 2025 10:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের পাটনার এক গ্রামাঞ্চলে সম্প্রতি এমন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরমহলেই তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একটি কুকুরের নামে সরকারি বাসিন্দা শংসাপত্র জারি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছে (FIR Lodged Against Applicant Behind 'Dog Babu')। শুধু তাই নয়, শংসাপত্রে ওই কুকুরের অভিভাবক হিসেবে রয়েছে, ‘কুত্তা বাবু’ ও ‘কুত্তিয়া দেবী’।
ঘটনাটি পাটনা (Patna) জেলার মাসৌরিহি সার্কেলের অধীনস্থ এক পঞ্চায়েতের। বর্তমানে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি চলছে। এই সময়েই বহু মানুষ বাসিন্দার শংসাপত্র (Residence certificate) পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই বিতর্কিত শংসাপত্র ইস্যু হয়।
‘বিহার রাইট টু পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর আওতায় রাজ্যের বাসিন্দারা অনলাইনে বাসিন্দা শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা শংসাপত্র জারি করেন। কিন্তু এই ঘটনায় গোটা ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন উঠেছে।
‘ডগ বাবু’ নামে ইস্যু হওয়া শংসাপত্রের ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ নির্বাচন কমিশন ও সরকারি ব্যবস্থার গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, আধার ও রেশন কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে আদালত যেখানে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে এমন ফাঁকফোকর দিয়ে কুকুরের নামেও কাগজপত্র জারি হয়ে যাচ্ছে কীভাবে?
এই ঘটনায় পাটনা জেলা প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ জুলাই যে শংসাপত্রটি ইস্যু করা হয়েছিল, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।
এফআইআরে নাম রয়েছে, শংসাপত্রের আবেদনকারী, তথ্য আপলোড করা কম্পিউটার অপারেটর ও যাচাই না করেই চূড়ান্ত শংসাপত্র ইস্যু করে দেওয়া সরকারি আধিকারিকের। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন মাসৌরিহি মহকুমার শাসক। তাঁর রিপোর্টে উঠে আসে, তথ্য যাচাই না করেই শংসাপত্র অনুমোদনের সুপারিশ করেন এক সরকারি কর্মী। সেই কম্পিউটার অপারেটরকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার দফতরের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে শংসাপত্র ইস্যু করা সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।