
শেষ আপডেট: 3 October 2023 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই জানিয়েছিলেন বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার প্রতিবাদে তিনি যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তা থেকে পিছপা হওয়ার প্রশ্ন নেই। ৩ অক্টোবর বঞ্চিতদের নিয়ে তিনি যাবেন সংসদ ভবনের অদূরে যন্তর মন্তরে। তার পর সেখান থেকে এমন গর্জন হবে যাতে কানের মধ্যে দিয়ে তা মরমে প্রবেশ করে মোদী সরকারের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তবে দেখাও গেল তেমনটাই। সংসদ ভবনের অদূরে সকাল ১টা থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে পর্যন্ত চলল তৃণমূলের মেগা সমাবেশ। তৃণমূলের এমন সমাবেশকে ঘিরে দিল্লি পুলিশের আঁটসাঁট নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখান থেকেই কেন্দ্রের তখত থেকে বিজেপির জমিদারি হঠানোর ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
অভিষেকের কথায়, “রেল ট্রেন দিল না, রামলীলা ময়দানে অস্থায়ী তাঁবু করতেও দিল না। সোমবার ৫০জন বিধায়ক সাংসদকে আটকাতে ১০ হাজার, পুলিশ, ব়্যাফ, আধাসামরিক বাহিনাী সবাইকে নামিয়ে দিয়েছিল। আজকেও আপনারা দেখেছেন যেন ইন্ডিয়া চায়না যুদ্ধ হচ্ছে। একদিকে মণিপুর জ্বলছে, রোজ খুন, ধর্ষণ হত্যা চলছে অন্যদিকে তৃণমূলকে দমাতে অমিত শাহের অধীনে থাকা সিআইএসএফ, বিসিএফ, দিল্লি পুলিশ সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে । তারপরেও সভাটা হল তো। ঠিক এভাবেই গণতান্ত্রিক উপায়ে বোতাম টিপে সারা দেশ থেকে ওদের হঠাতে হবে।“
২ বছর ধরে বাংলার ২০ লক্ষ মানুষের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রের সরকার। এই অভিযোগ করে ব্যাঙ্গের সুরে অভিষেক বলেন, “যেন মোঘল সাম্রাজ্যের জমিদারি! কারা মানুষকে কাজ করিয়ে টাকা দেয় না? তাদেরকে কী বলে? চিটিংবাজ!” বাংলার বঞ্চিত মানুষের বকেয়া টাকা আগামী ২ মাসের মধ্যে তৃণমূলের দলীয় সাংসদরা নিজেদের সাংসদ ভাতা থেকে মিটিয়ে দেবেন বলেও এদিন সভাস্থলে ঘোষণা করেন তৃণমূলের সর্বভারতাী সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে এই বিষয়ে ফিরে গিয়ে রাজ্যের কাছেও আবেদন জানাবেন বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন যে অব্যাহত থাকবে তা জানিয়ে অভিষেক বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত না লাগলে আজকের সভার নেতৃত্বে থাকতেন উনি। তবে কথা দিয়ে যাচ্ছি দিল্লির বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফের ২ মাসের মধ্যে ১ লাখ মানুষের মিছিল করব দিল্লিতে। সেদিন নেতৃত্বে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
মঞ্চের নীচে রাখা ছিল বাংলার বঞ্চিত মানুষের ৫০ লাখ চিঠি। মঙ্গলবার সন্ধেয় ওই বিপুল পরিমাণ চিঠি নিয়েই কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সাধ্বী রঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তবে তার আগে দলীয় কর্মীদের সকলকে আম্বেদকর ভবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
মঙ্গলবারও কর্মীদের দিকে দিল্লি পুলিশ লাঠি উচিয়ে তাড়া করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অভিষেক সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে না বেরিয়ে আগে কর্মীদের আম্বেদকর ভবনে ফেরৎ পাঠিয়েছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সোমবার রাজঘাটে তৃণমূল সাংসদদের শান্তিপূর্ণ ধর্না কর্মসূচিতে মহিলাদের ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগে উঠেছিল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকী রাজঘাটের বাইরে অভিষেকের সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেও বারে বারে হুইসেল বাজিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। কর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় বলেও অভিযোগ।
ওই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, “আবারও বলছি আমাদের কোনও কর্মীর গায়ে যদি একটা আঁচড় লাগে তাহলে মনে রাখবেন বাংলাতেও কিন্তু আপনাদের প্রতিনিধিরা থাকেন। কোনও ভয় দেখাচ্ছি না, এটা সৌজন্যতা। বিজেপি যে ভাষায় বোঝে সেই ভাষাতেই কথা বলছি মাত্র।” সভা শেষে ' দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান' স্লোগানও দিতে দেখা যায় টিম অভিষেককে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির বুকে এই ধরনের সভা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন ঘটনা। বিশেষত, একেবারে শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিলের পরও যেভাবে বাসে করে কর্মীদের ১৬০০ কিমি পথ উজিয়ে নিয়ে গিয়ে দিনভর যন্তরমন্তরে সভা হল, তাতে অভিষেকের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রশংসাই করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আম্বেদকর ভবনে যাবেন। ওখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করবেন তিনি।