দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেদিন রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন সেদিন আমিও আর রাজনীতিতে থাকব না। পুনের এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। যদিও তাঁর ধারণা, মোদী এখনও দীর্ঘদিন রাজনীতি করবেন।
নরেন্দ্র মোদী প্রায়ই নিজেকে বলেন, জনতার ‘প্রধান সেবক’। এদিন অনুষ্ঠানের দর্শকাসন থেকে একজন স্মৃতিকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কবে প্রধান সেবক হবেন? তিনি উত্তর দেন, কখনই না। আমি যখন রাজনীতিতে আসি, তখন অনেক বড় বড় নেতা ছিলেন। আমি অটলবিহারী বাজপেয়ীজির অধীনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এখন মোদীজির অধীনে কাজ করছি। যেদিন প্রধান সেবক বিশ্রাম নেবেন, সেদিন আমিও রাজনীতি থেকে অবসর নেব।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নিজে স্থির করব, আমার জীবনের কত অংশ আমি দেশের জন্য, সমাজের জন্য দেব। একটি স্বাধীন দেশে আমি যদি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তাহলে কীসের স্বাধীনতা?
স্মৃতিকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মোদী বাদে অপর কোনও নেতার অধীনে কাজ করতে চান না? তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, আমি কি এখন রাজনাথ সিংজি বা নীতিন গডকড়িজির অধীনে কাজ করছি না? গত ১৮ বছরে আমি অনেক নেতার সঙ্গে কাজ করেছি। বাজপেয়ীজি এবং আদবানীজির সঙ্গেও আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।
অন্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা হয়তো ভাবছেন, মোদী আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকবেন না। কিন্তু আমি আপনাদের বলছি, তিনি আরও অনেকদিন ক্ষমতায় থাকবেন।
স্মৃতিকে প্রশ্ন করা হয়, আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়াই করবেন কি? তিনি বলেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সভাপতি অমিত শাহ। ২০১৪ সালে যখন আমি রাহুলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিল, স্মৃতি কে? কিন্তু ২০১৯ সালে তারা জানে, আমি কে?
২০১৪ সালে স্মৃতি অমেঠি কেন্দ্রে রাহুল গান্ধীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করা নিয়ে তিনি বলেন, কেবল অচেনা লোকজন নয়, বড় সাংবাদিক ও রাজনীতিকরাও আমাকে ট্রোল করেছেন।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন কোন মহিলা রাজনীতিকের ভক্ত? তিনি বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের নাম বলেন। তাঁর কথায়, সুষমাজিরা যখন রাজনীতিতে এসেছিলেন, তখন পরিস্থিতি এখনকার চেয়ে কঠিন ছিল। তাঁরা বাইরের কোনও সমর্থন ছাড়াই রাজনীতিতে নিজেদের ছাপ রেখে গিয়েছেন।