মাত্র দেড় ঘণ্টায় রোহিতকে খুন করে প্রমাণ লোপাট করেছি, স্বীকার করলেন তাঁর স্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বরের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তাকে খুন করেছি। পুলিশের জেরার সামনে স্বীকার করলেন নিহত রোহিত শেখর তেওয়ারির স্ত্রী অপূর্বা। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন ডি তেওয়ারির ছেলে রোহিত খুন হন ১৬ এপ্রিল রাতে। পুলিশ তখনই সন
শেষ আপডেট: 24 April 2019 08:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বরের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তাকে খুন করেছি। পুলিশের জেরার সামনে স্বীকার করলেন নিহত রোহিত শেখর তেওয়ারির স্ত্রী অপূর্বা। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন ডি তেওয়ারির ছেলে রোহিত খুন হন ১৬ এপ্রিল রাতে। পুলিশ তখনই সন্দেহ করেছিল, তাঁর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করা হয়েছে। পরে অপূর্বা স্বীকার করেন, তিনিই স্বামীকে খুন করে প্রমাণ লোপাট করেছিলেন।
তিনি পুলিশকে বলেছেন, রোহিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ ছিল। স্বামীর জন্য তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর দিনও স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। একসময় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বামীর গলা টিপে ধরেন। রোহিত তখন মদ্যপান করছিলেন। তিনি বাধা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না।
দিল্লি পুলিশের অফিসার রাজীব রঞ্জন বলেন, আমরা ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে অপূর্বাকে গ্রেফতার করেছি। সে স্বীকার করেছে, ১৬ এপ্রিল রাতে রোহিতের ঘরে ঢুকেছিল। তাকে খুন করার পরে প্রমাণ নষ্ট করে দেয়। পুরো কাজটা করতে তার সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা।
প্রথমে অপূর্বা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ১৬ এপ্রিল রাতে রোহিত নিজের ঘরে শুয়ে পড়েছিলেন। খানিক বাদে তিনি অপূর্বাকে ডাকেন। তিনি বলেন, পায়ে যন্ত্রণা হচ্ছে। অপুর্বা স্বামীর সেবা করেন। পরে সেই ঘর থেকে চলে যান। পুলিশ তাঁর কাছে জানতে চায়, স্বামী দিনের বেলায় অতক্ষণ শুয়ে আছেন দেখেও তাঁর সন্দেহ হয়নি কেন?

পুলিশ দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনির সব সিসিটিভি দেখে বুঝতে পারে, খুনের দিন বাইরে থেকে কেউ রোহিতের ফ্ল্যাটে ঢোকেনি। অর্থাৎ বাড়ির কেউ খুন করেছে। রোহিতের মা উজ্জ্বলা তেওয়ারি পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলের সঙ্গে বউয়ের বনিবনা হত না। দু’জনে পৃথক ঘরে থাকতেন।
৪০ বছরের রোহিত গত ১২ এপ্রিল গিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডে। ১৫ এপ্রিল ফিরে আসেন। পুলিশ সিসিটিভি দেখে জানতে পারে, তিনি অতি কষ্টে দেওয়াল ধরে ধরে হাঁটছিলেন। পুলিশের ধারণা হয়, তিনি তখন মাতাল অবস্থায় ছিলেন।
১৬ এপ্রিল উজ্জ্বলা ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে ফোন পান, রোহিত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। তখন উজ্জ্বলা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রহিতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
নিজেকে এন ডি তেওয়ারির ছেলে বলে প্রমাণ করার জন্য দীর্ঘ ছ’বছর আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন রোহিত। ২০১২ সালে কোর্ট ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দেয়। এন ডি তেওয়ারি প্রথমে ডিএনএ টেস্টের জন্য নিজের রক্তের নমুনা দিতে চাননি। পরে অবশ্য রাজি হন। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ঘোষণা করে, এন ডি তেওয়ারিই রোহিতের বাবা।