দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত শুক্রবার মার্কিন ড্রোন হানায় মারা গিয়েছেন ইরানের সেনাকর্তা কাসেম সোলামানি। ফলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরাকের ওপরে খুব কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। তারপরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে শেয়ার বাজারে। সোমবার শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি নেমেছে গত ছ’মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এদিন সেনসেক্স ৭৮৮ পয়েন্ট নেমে পৌঁছেছে ৪০,৬৭৬.৬৩-এর ঘরে। নিফটি ২৩৪ পয়েন্ট নেমে পৌঁছেছে ১১,৯৯৩ এর ঘরে।
সোলেমানির মৃত্যুতে সামগ্রিকভাবে সংকট দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। গত সপ্তাহে রীতিমতো আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ‘মিনি বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই। মনে হচ্ছিল, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সামান্য হলেও ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাগদাদে আমেরিকার ড্রোন হানার পরেই পালটে গিয়েছে পরিস্থিতি। এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে দুই শতাংশের বেশি। গত সেপ্টেম্বরের পরে এই প্রথমবার অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম পৌঁছেছে ৭০ ডলারে।
গত সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার সূচক পৌঁছে গিয়েছিল রেকর্ড উচ্চতায়। এদিন তা নেমে এসেছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের অন্তর্গত সাতটি দেশেও শেয়ার সূচক নেমেছে হু হু করে। তার মধ্যে কুয়েত, কাতার ও বাহরিনে আছে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি। তাছাড়া সৌদি আরবের মতো দেশেও মোতায়েন রয়েছে কয়েকশ সেনা।
উপসাগরীয় দেশগুলির সীমা ছাড়িয়ে শেয়ার বাজারের মন্দা ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়ার অন্যান্য দেশে। নতুন বছর আসার পরে সোমবারই প্রথম খুলল টোকিও-র শেয়ার বাজার। সেখানে শেয়ারের দাম কমেছে দুই শতাংশের বেশি। হংকং-এ শেয়ারের দাম কমেছে ০.৭ শতাংশ, সিডনিতে কমেছে ০.৪ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে কমেছে ০.৫ শতাংশ, সিওলে কমেছে এক শতাংশ, তাইপেইতে কমেছে এক শতাংশের বেশি, ম্যানিলায় ১.৭ শতাংশ ও জাকার্তায় ০.৭ শতাংশ। এরই মধ্যে সাংহাইতে শেয়ারের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহেই ব্যাঙ্কিং সেক্টর ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে পাহাড়প্রমাণ ঋণের হাত থেকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেয় চিন সরকার। সেজন্যই সাংহাইয়ের শেয়ার মার্কেটের সূচক উর্ধ্বমুখী হয়েছে।