
শেষ আপডেট: 3 October 2021 16:17
বিকেল গড়ালেই ভিড় বাড়ছে। ঠেলাঠেলি-ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার, দামাদামি সব মিলিয়ে গমগমে বাজারগুলি। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও প্রিয় উৎসবে নতুন কিছু কেনার তাগিদে মার্কেটগুলোতে ভিড় বাঙালির।
ব্যাবসায়ী মীরা দাস বলছিলেন, জমানো শেষ কড়িটুকু দিয়ে মাল তুলেছেন। স্বামী মারা যাবার পর একার হাতেই দোকান সামলাচ্ছেন তিনি। তাই শেষবেলায় কিছুটা বিক্রি হলেও চিন্তা কমবে তাঁর। মীরাদেবী বলেন, "এতদিন তেমন বিক্রি ছিল না, আজ-কাল বাজার কিছুটা বেড়েছে। তবে আগের মতো বিক্রি নেই একদমই।"
পুজোর বাকি আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন। মহালয়ার আগে শেষ শনি-রবি নিয়ে তাই আশাবাদী ছিলেন ব্যবসায়ীরা। শনি-রবিতে কিছুটা চেনা ভিড় ফিরেছে বাজারে। ফুটপাত দিয়ে ভিড়ের ঠেলা খেতে হচ্ছে। তবে আশার মতো বিক্রি নেই ব্যবসায়ীদের।
হাতিবাগানে গত ১০-১১ বছরের জামা-কাপড়ের দোকান সঞ্জয় দাসের। তবে বাজারের এমন খারাপ অবস্থা আগে দেখেননি তিনি। তাঁর কথায়, "আগে যদি দিনে হাজার বিশ টাকার বিক্রি হত, এখন তার অর্ধেক তুলতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভিড় করে আসছে সবাই, অনেক কিছু দেখছে। কিন্তু হয় কেউ একটা কিনছে, কেউ তো কিনছেনই না। আগে পাঁচটা কিনলে এখন দুটো কিনেই বাজার শেষ করছে।"
তবে শত অভিযোগেও, শেষ মুহূর্তে কিছুটা বাজার ঘুরেছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আর্থিক কারণে অন্য বছরের মতো এমনিতেই পসার নেই দোকানে। বিক্রি হচ্ছে কোনরকমে। 'দাঁড়াবেন না, এগিয়ে চলুন', চেনা আওয়াজ ইতিউতি শোনা যাচ্ছে। তবে ভিড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিক্রি না হওয়ায় নিরাশ ব্যবসায়ীরা। 'আর কত দেখবেন, এবার কিনুন', 'কিনবেন না? ব্যাগ কোথায়?' বিরক্ত দোকানিদের গলায় এখন সুর বদলেছে।