দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের দেওয়া হচ্ছে কোভিড ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ। তাকে বলা হয় বুস্টার শট (Booster Shot)। সোমবার বুস্টার ডোজ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করলেন, যে মার্কিন নাগরিকরা এখনও ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না, তাঁরা দেশের ক্ষতি করছেন।
বাইডেন বাঁহাতে ফাইজারের বুস্টার শট নেন। তারপর রসিকতা করে বলেন, "আমি জানি ব্যাপারটা দেখতে ভাল লাগছে না। কিন্তু কিছু করার নেই। আমার বয়স ৬৫-র বেশি। আমার বয়স ৭৮।" যাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ এবং যাঁদের ঘন ঘন করোনা আক্রান্তদের কাছে যেতে হয়, তাঁদেরও বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে।
বাইডেন বলেন, সমস্যা হল, আমেরিকানদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না। তাঁরা এখনও ভ্যাকসিনের একটা ডোজও নেননি। তাঁদের জন্যই দেশ জুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট হিসাব দিয়ে বলেন, আমেরিকার ৭৭ শতাংশ নাগরিক ভ্যাকসিন নিয়েছেন। কিন্তু নাগরিকদের এক চতুর্থাংশ এখনও ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।
এর মধ্যে জানা যায়, কোভিডের প্রতিষেধক হিসাবে কোভ্যাকসিনকে এখনই অনুমোদন করেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ওই ভ্যাকসিনের নির্মাতা ভারত বায়োটেকের কাছে আরও কয়েকটি 'টেকনিক্যাল প্রশ্ন' পাঠিয়েছে তারা। এর ফলে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয়রা সমস্যায় পড়তে পারেন।
হু-এর এমার্জেন্সি ইউজ অথেনটিকেশন সার্টিফিকেট ছাড়া ভারতে নির্মিত কোভ্যাকসিন বেশিরভাগ দেশে স্বীকৃতি পাবে না। এর আগে হায়দরাবাদে ভারত বায়োটেকের অফিস থেকে জানানো হয়েছিল, হু-র প্রতিটি প্রশ্নেরই জবাব পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছিল, হু যে কোনসময় কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন করতে পারে। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার বলেন, "হু-র অনুমোদন পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নথিপত্র পেশ করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শীঘ্রই কোভ্যাকসিনকে এমার্জেন্সি ইউজ সার্টিফিকেট দেবে।"
এর আগে ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অব ভ্যাকসিন অ্যাডমিনস্ট্রেশনের প্রধান ভি কে পালও বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষেই হু কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন করবে। ভারত বায়োটেকের দাবি, তৃতীয় দফার পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোভ্যাকসিন ৭৭.৮ শতাংশ ক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধে সক্ষম।
গত জানুয়ারির মাঝামাঝি কোভ্যাকসিন এবং কোভিশিল্ড, দু'টি ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতে টিকাকরণ শুরু হয়। পরে রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক ভ্যাকসিনও ব্যবহার করা শুরু হয়। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের টিকা দেওয়া শুরু হয়।