
শেষ আপডেট: 16 January 2023 02:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাবা পশুপতিনাথের (Pashupatinath Temple) কাছে মানত করেছিলেন, ছেলে হলে সশরীরে নেপাল গিয়ে পুজো দিয়ে আসবেন। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছিল। তারপরেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সোনু ঈশ্বরকে দেওয়া কথা রাখতে নেপালে গিয়েছিলেন। কে জানত, সেই যাওয়াই তাঁর শেষ যাওয়া হবে! রবিবার নেপালের পোখরায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় (Nepal Plane crash) মৃত্যু হয়েছে সোনু ও তাঁর ৩ বন্ধুর।
গাজীপুর জেলার চক জয়নাব গ্রামের বাসিন্দা সোনু জয়সওয়াল। ৩৫ বছর বয়সি সোনুর দুই মেয়ে রয়েছে। কাঠমাণ্ডুর জাগ্রত পশুপতিনাথের কাছে সোনু মানত করেছিলেন, ছেলে হলে নিজে নেপালে গিয়ে পুজো দিয়ে আসবেন। তাঁর মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছিল। ৬ মাস আগেই সোনু এবং তাঁর স্ত্রীর কোল আলো করে আসে ফুটফুটে পুত্র সন্তান। তারপরই মানত রক্ষা করতে নেপালে যাবেন বলে মনস্থির করেন সোনু।
সেই মতোই তিন বন্ধু অভিষেক কুশওয়াহা (২৫), বিশাল শর্মা (২২) এবং অনিল কুমার রাজভর (২৭)-এর সঙ্গে গত ১০ জানুয়ারি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সোনু। সেখানে গিয়ে পশুপতিনাথ মন্দিরে পুজোও দেন তিনজন। সব কাজ মিটে যেতে কাঠমাণ্ডু থেকে বিমানে চেপে পোখরা ফিরছিলেন তাঁরা। পোখরায় এসে প্যারাগ্লাইডিং করে বুধবার ভারতে ফেরার কথা ছিল ৩ জনের।
কিন্তু নিয়তিতে ছিল অন্য কিছু। রবিবার পোখরা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় সেটিতে। বিমানটির ৬৮ জন যাত্রীর মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সোনু ও তাঁর বন্ধুরা। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিমানটির পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সমস্ত যাত্রীর।
ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাজীপুরে সোনুর গ্রামে। আত্মীয় প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছে সেখানে। যদিও তাঁরা জানিয়েছেন, সোনুর স্ত্রী ও মেয়েরা অন্য একটি বাড়িতে থাকেন। ফলে তাঁদের এখনও এই ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ দেওয়া হয়নি। তবে বলতে তো হবে বটেই। সব জানার পর সোনুর স্ত্রী, মেয়ে এবং শিশুপুত্রের কী হবে, সেই নিয়েই এখন চিন্তায় তাঁর আত্মীয় এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা।
'বিকট শব্দ! খালি পায়েই ছুটে গেলাম, দাউদাউ জ্বলছে দেহ…' বিমান দুর্ঘটনার ভয়ানক বর্ণনা