দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেক্সামিথাসোন আসলে কী? কেমন এই ওষুধ, দাম কত, ব্র্যান্ডের নামই বা কী— বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনজুড়ে এখন ডেক্সামিথাসোনের খোঁজ। বিশেষত ভারতীয়দের মধ্যে ডেক্সামিথোসান নিয়ে আগ্রহ অনেকটাই বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুগল সার্চে তাই এই ওষুধের খুঁটিনাটি জানার ধুম পড়ে গেছে।
করোনা চিকিৎসায় ডেক্সামিথাসোনকে জীবনদায়ী ওষুধ বলে দাবি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। রিকভারি ট্রায়ালের রিপোর্টে গবেষকরা দাবি করেছেন, এই ওষুধের ডোজে সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে। ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা অন্তত এক তৃতীয়াংশ মরণাপন্ন কোভিড রোগীর প্রাণ বেঁচেছে বলেও দাবি করেছেন এই ওষুধের ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা অক্সফোর্ডের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পিটার হার্বে।
প্রায় ৬০ বছরের পুরনো ওষুধ দামেও অনেক সস্তা এবং সহজলভ্য বলেও জানিয়েছে অক্সফোর্ড। এর পর থেকেই ভারতের বাজারে এই ওষুধের দাম, কোন ব্র্যান্ডে বিক্রি হয় এই ওষুধ, নির্মাতা সংস্থার নাম-সহ একাধিক বিষয় উঠে এসেছে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে। সেই সার্চ রেজাল্টের ছবিও সামনে এনেছে গুগল।

গুগল ট্রেন্ডে যে সার্চ রেজাল্ট সামনে আনা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ভারতের অরুণাচলপ্রদেশে ডেক্সামিথাসোনের খোঁজ বেশি হয়েছে। তাছাড়া, সিকিম, দিল্লি, গোয়া ও নাগাল্যান্ড থেকেও এই ওষুধের খোঁজ বেশি হয়েছে গুগলে।

১৯৫৭ সালেই তৈরি হয়েছে ডেক্সামিথাসোন। ১৯৬১-তে এই ওষুধ ব্যবহারে অনুমোদন দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ অর্থাৎ প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ত্বকের র্যাশ, অ্যালার্জি, সোরিয়াসিস এমনকি মাল্টিপল মায়োলোমার চিকিৎসাতেও ডেক্সামিথাসোনের প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। করোনা সারাতেও যে এই ওষুধের কার্যকরী ভূমিকা থাকতে পারে সেটা প্রথম সামনে আনে ব্রিটেন। অক্সফোর্ডের ক্লিনিকাল ট্রায়ালকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাস বলেছেন, “ প্রথম কোনও ওষুধ অক্সিজেন এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়েছে। অবশ্যই বড় খোঁজ। ব্রিটেন সরকার এবং অক্সফোর্ডকে স্বাগত। যেসব হাসপাতাল এবং কোভিড রোগীদের উপর এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে তাদেরও অনেক ধন্যবাদ।”
হু-র চিফ সায়েন্টিস্ট এবং বর্তমানে ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল অব প্রোগ্রাম ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, “করোনার রিকভারি ট্রায়ালে ডেক্সামিথাসোনের কার্যকরী প্রয়োগকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আমাদের এখন লক্ষ্য কত তাড়াতাড়ি সংক্রমণ ঠেকানো যায় এবং মৃত্যুহার কম করা যায়।”
ডেক্সামিথাসোন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায়। এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ডেক্সপ্যাক (DexPak) । তবে ভারতে আরও কয়েকটা ব্র্যান্ড নামে এই ওষুধ পাওয়া যায়। দামও ১০ টাকার মধ্যেই। মেডলাইন ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন ডোজে ও ব্র্যান্ডে ডেক্সামিথাসোনের দাম নানা রকম। যেমন, ডেকা ফোর্ট ট্যাবের (ডেক্সামিথাসোন ১ মিলিগ্রাম) দাম ৩টা ৯৫ পয়সা, ডেকডান ট্যাব (ডেক্সামিথাসোন ০.৫ মিলিগ্রাম) ২টাকা ১৭ পয়সা, ডেকডান আইএনজের (ডেক্সামিথাসোন ৪ মিলিগ্রাম/মিলিলিটার) দাম ৯ টাকা ৪৪ পয়সা, ডেক্সোনা ট্যাবের (ডেক্সামিথাসোন ০.৫ মিলিগ্রাম) দাম ৮ টাকা ৭৩ পয়সা।