
শেষ আপডেট: 6 January 2024 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালু-বাকিবুর-শঙ্কর আঢ্য ত্রিকোণ সখ্যের মধ্যে এবার ঢুকে পড়ল এক রহস্যময় চিঠিও। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতে, এমনিই শঙ্কর আঢ্যর ডাকনাম হল ডাকু। তার উপর মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকও বেশ ডাকাবুকো।
কেন?
ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, গত ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশের পর এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘর থেকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা খোলা হচ্ছিল। বালুর মেয়ে আকছার হাসপাতালে যেতেন বাবার সঙ্গে গেখা করতে। ওইদিন মেয়েকে হাতে লেখা একটা চিঠি দিচ্ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়।
ইডির সন্দেহ বাবা ও মেয়ের মধ্যে এরকম চিঠি চালাচালি তথা বিনিময় চলছিলই। সেদিন তাঁদের চিঠি হাতে দেখে ফেলেন প্রহরারত আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁরা সেটা বাজেয়াপ্ত করেন।
শুক্রবার রাতে শঙ্কর আড্য গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্য সাংবাদিকদের বলেন, সারাদিন অফিসাররা ওঁকে ব্যবসার বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন। শঙ্কর সহযোগিতা করছিলেন। কিন্তু রাতে হঠাৎ ইডির এক অফিসার বলেন যে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জেরায় শঙ্কর আঢ্যর কথা বলেছেন। ওনার হাতে একটা ব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগ থেকে তিনি একটা কাগজ বের করেন। তার পরই গ্রেফতার করা হয় শঙ্করকে।
ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ওই চিঠিতে শঙ্করের নাম ছিল। আর ছিল টাকা পয়সা লেনদেনের হিসাব। তা আধা বাংলায় আধা ইংরেজিতে লেখা। জানা গিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর বালুকে জেরা করার সময়ে শঙ্কর আঢ্যর সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন বালু।
ইডি অফিসারদের সন্দেহ বালু-শঙ্কর-বাকিবুরদের একটা বড় চক্র ছিল। শঙ্করের ১৯টি বিদেশি মুদ্রা বদলের এজেন্সি রয়েছে। রেশন দুর্নীতির টাকা ওই মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এবং হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপাতত ২৭০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। হতে পারে গোটা দুর্নীতির বহর ২০ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকাই রেশন দুর্নীতির।
শঙ্কর আঢ্যর মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা ছিল সীমান্ত এলাকায়। আবার কলকাতায় বাইপাস সংলগ্ন তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। এই সব ঠিকানার মাধ্যমেই টাকা পাচার হত বলে ই়ডির সন্দেহ।
তবে শঙ্কর আঢ্যর আইনজীবীর বক্তব্য, এগুলো সবই মনগড়া। এই সব অভিযোগের সপক্ষে ইডি এখনও কোনও নথি বা প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।