
শেষ আপডেট: 12 February 2024 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। গুন্ডারা বাড়িতে ঢুকে মহিলা-শিশুদের হেনস্থা করছে। রবীন্দ্রনাথের জায়গায় এমন হতে পারে ভাবতেও পারি না। সোমবার সন্দেশখালির পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে এমনই জানালেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সঙ্গে গ্রামবাসীদের আশ্বাস দিলেন, “আমার ক্ষমতায় যা সম্ভব তাই করব।”
কেরল সফর কাটছাঁট করে এদিনই বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় আসেন সি ভি আনন্দ বোস। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বিমানবন্দর থেকে সোজা সন্দেশখালির উদ্দেশে রওনা দেন। এদিন রাজ্যপালকে কাছে পেতেই এলাকার দাপুটে নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবপ্রসাদ হাজরাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান গ্রামের মহিলারা। এক এক করে রাজ্যপালের কাছে এসে তাঁরা নিজেদের অভিযোগের কথা বলেন বোসকে। কেউ বলেন, দিনের পর দিন কীভাবে তাঁদের উপর অত্যাচার হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতার কথা। আবার অনেকে অঝোরে শুধুই কেঁদে চলেন। 'অভিভাবক'-এর মতো তাঁদের সকলের বক্তব্য শোনেন রাজ্যপাল। সঙ্গে আশ্বাসের সুরে বলেন, "কথা দিচ্ছি, যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আমার যা ক্ষমতা আছে, তা দিয়েই আমি ব্যবস্থা নেব।’’
এরপর বিকেল ৩ টে নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বোস। প্রায় কয়েক ঘণ্টা সন্দেশখালির মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, "আমি এমন কিছু শুননাম, যা কখনও শুনিনি। শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। চোখের জল বাধ মানে না। রবীন্দ্রনাথের জায়গায় এমন হতে পারে ভাবতেও পারছি না। সংবিধানে আওতায় আমার যেটুকু ক্ষমতা নিশ্চয়ই সাহায্য করব।”
এদিন সন্দেশখালি যাওয়ার পথে জায়গায় জায়গায় তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বাসন্তী হাইওয়ে ধরে যাওয়ার পথে রাজবাড়ি, সরবেড়িয়া, আকুঞ্জি পাড়া, মিনাখা-সহ একাধিক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। কিন্তু রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য সন্দেশখালিতে অধীর আগ্রহে ছিলেন গ্রামের মহিলারা। বোসকে কাছে পেয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁরা। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে নিজেদের অভিযোগের কথা বলেন।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে শিরোনামে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সন্দেশখালি। সেখানকার দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে খুঁজতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে ইডির আধিকারিকরা। তারপর থেকে এখনও বেপাত্তা শেখ শাহজাহান। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শাহজাহান ঘনিষ্ট শিবপ্রসাদ হাজরা এবং উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামাবাসীরা। অশান্তির আগুন এখন যেন দাবানলে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। ওইদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েকশো মহিলা। সন্দেশখালি থানা ঘেরাও করেন তাঁরা। এরপরই শনিবার থেকে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামে প্রশাসন।