দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬ নভেম্বর থেকে খুলছে শবরীমালা মন্দির। ভগবান আয়াপ্পার এই মন্দিরে ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে বার্ষিক মণ্ডল পুজো। তবে এবার কোভিড বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হবে বলেই জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রোটোকল মেনেই ঢোকা যাবে মন্দিরে।
করোনা সংক্রমণ রয়েছে বা আগে সংক্রামিত হয়েছিলেন এমন ব্যক্তিরা মন্দির চত্বরে ঢুকতে পারবেন না, গাইডলাইনে এমনটাই জানিয়েছে কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকার। নির্দেশিকা রয়েছে আরও। করোনা সংক্রমণের সতর্কতার জন্যই ১০ বছরের নীচে শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা এখন মন্দিরে ঢুকতে পারবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, কোভিড বিধি মেনেই মন্দিরে ঢোকার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুজো দেওয়ার পরে বেশিক্ষণ মন্দির চত্বরে কাটাতে পারবেন না কেউ। মন্দিরে ঢুকতে হলে ফেস-মাস্ক বাধ্যতামূলক। পাম্বা নদীতে এখন স্নান করার অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবর্তে মন্দির চত্বরে সাওয়ার সিস্টেম করা হবে। প্রসাদ বিতরণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সে জন্য স্টিলের পাত্রে জল দেওয়া হবে পুণ্যার্থীদের।
প্রাচীন বিশ্বাস মেনে শবরীমালায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিশ্বাস ছিল, ঋতুমতী মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করলে মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ আয়াপ্পার কৌমার্যব্রত ভেঙে যাবে। এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার দাবি করেন মহিলারা। মানবশৃঙ্খল গড়ে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন। মামলা গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। অবসরের আগে তাঁর শেষ রায়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছিলেন, লিঙ্গভিত্তিক যে বৈষম্য গড়ে উঠেছে শবরীমালার মন্দিরকে কেন্দ্র করে সেটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সুপ্রিম কোর্ট এই অযৌক্তিকতাকে সমর্থন করে না। সংবিধানও এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে। মন্দিরের নিয়ন্ত্রক ত্রিবাঙ্কুরের দেবাস্বম বোর্ডও শীর্ষ আদালতের রায় মেনে নেয়। ফলে সব বয়সী মহিলারাই মন্দিরে ঢোকার প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।
২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ রায় দেয়, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলারাও আয়াপ্পা মন্দিরের গর্ভ গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কার্যকর করতে পারেনি কেরলের বামপন্থী সরকার। মন্দিরে প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজেপি। তাদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যেন কেরল সরকার কার্যকর না করে। শবরীমালা মন্দিরে যেন কোনওভাবেই মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া না হয়। তবে প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও মন্দির দর্শন করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন ৫১ জন মহিলা।