পরিবারের অমতে বিয়ে করার 'অপরাধে' অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে পুড়িয়ে মারল দুই কাকা!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের অমতে তাঁরা পরস্পরকে বিয়ে করেছিলেন ভালবেসে। কিন্তু 'নিচু বর্ণের' ছেলের সঙ্গে এই বিয়ে নিয়ে চরম অশান্তি করেছিল মেয়েটির পরিবার। দাবি করেছিল, তাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে এই বিয়েতে। কিন্তু সেই সম্মান রক্ষা করার ম
শেষ আপডেট: 8 May 2019 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের অমতে তাঁরা পরস্পরকে বিয়ে করেছিলেন ভালবেসে। কিন্তু 'নিচু বর্ণের' ছেলের সঙ্গে এই বিয়ে নিয়ে চরম অশান্তি করেছিল মেয়েটির পরিবার। দাবি করেছিল, তাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে এই বিয়েতে। কিন্তু সেই সম্মান রক্ষা করার মাসুল দিতে যে মেয়েটিকে আগুনে পুড়ে খুন হতে হবে, তা ভাবেনি কেউ। তা-ও আবার গর্ভবতী অবস্থায়!
রবিবার, মহারাষ্ট্রের আহমদনগর শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে পারনার থানার অন্তর্গত নিঘোজ গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযুক্ত নিহত তরুণী রুক্মিনী রানসিংহর দুই কাকা সুরেন্দ্র ভারতী ও ঘনশ্যাম ভারতী। তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও আর এক অভিযুক্ত, রুক্মিনীর বাবা রাম ভারতী এখনও পলাতক।
স্ত্রী রুক্মিনীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন তাঁর স্বামী মঙ্গেশ রানসিংহ। তিনি এখন পুণের হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় থানার পুলিশ অফিসার বিজয়কুমার বোরগদে বলেন, ‘‘রুক্মিনীর পরিবার আদতে উত্তরপ্রদেশের লোক। তাঁরা পাসি সম্প্রদায়ের। অন্য দিকে পেশায় রাজমিস্ত্রি মঙ্গেশ ছিলেন লোহার সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক বছরের প্রেম ছিল। গত বছর দেওয়ালির সময়ে পুণেতে গিয়ে বিয়ে করেন তাঁরা। সেই বিয়েতে অবশ্য মঙ্গেশের বাড়ির লোকের সায় ছিল। রুক্মিনীর পরিবারের আপত্তি ছিল। সে জন্যই এই বিয়ে হয়েছিল পুণের আলান্দিতে।" অভিযোগ, তার পর থেকেই ওই যুগলকে হুমকি দিতে থাকে রুক্মিনীর পরিবার।
পারিবারিক সূত্রের খবর, গত ৩০ এপ্রিল রাতে সাংসারিক একটি বিষয় নিয়ে রুক্মিনী ও মঙ্গেশের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। রাগ করে বাপের বাড়ি চলে আসেন রুক্মিনী। দু’দিন পরে ফের নিজেই মঙ্গেশকে বলেন, তাঁকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলেন তিনি। গত রবিবার রুক্মিনীকে আনতেই তাঁর বাড়ি নিঘোজ গ্রামে যায় মঙ্গেশ। সেখানে তিনি যাওয়ার পরে তাঁকে অপমান করতে থাকে রুক্মিনীর পরিবারের সদস্যরা। শুরু হয় উত্তপ্ত বাদানুবাদ। সে সময় রুক্মিনীর দুই কাকা তাঁদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়!
দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে রবিবার রাতেই মারা যান রুক্মিনী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সত্তর শতাংশ পুড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি দু’মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। অন্য দিকে দেহের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ পুড়ে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মঙ্গেশ।