দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির জোট শরিক জেজেপি-র নেতা দুষ্যন্ত চৌতালা। মঙ্গলবার চৌতালা দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। এই দু'টি সাক্ষাৎকার নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ মাসখানেক আগেই চৌতালা হুমকি দিয়েছিলেন, কৃষকদের সমস্যার সমাধান না হলে তিনি বিজেপি জোট ছাড়বেন। জেজেপি মূলত কৃষকদের ভোটের ওপরে নির্ভরশীল। কৃষি আইন নিয়ে আন্দোলন চলার সময় জেজেপি সরকারপক্ষে থাকায় তাদের অনেক সমর্থক বিরূপ হয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এই পরিস্থিতিতে চৌতালা মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করায় অনেকে মনে করছেন, হরিয়ানায় কি বিজেপি জোটে ভাঙন আসন্ন? মোদী ও অমিত শাহ কি চৌতালাকে বুঝিয়ে জোট অটুট রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন?
এদিন মোদীর সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করার পরে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এম এল খট্টর ও চৌতালা অবশ্য বলেন, জোট সরকারের সামনে কোনও বিপদ নেই। এই সরকার পুরো পাঁচ বছর টিকবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, "সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার কোনও মানে হয় না। অমিত শাহের সঙ্গে আমরা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা করেছি। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের জন্য আমরা আরও নিরাপত্তারক্ষী চেয়েছি।"
তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে দেড় মাসের বেশি বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পাঞ্জাবের পাশাপাশি হরিয়ানার কৃষকরাও বড় সংখ্যায় শামিল হয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি কৃষক সংগঠনগুলি দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলের ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কয়েকটি পিটিশনের শুনানি হয়। সেপ্টেম্বরে পাশ হওয়া তিনটি আইন স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট। কৃষকদের ক্ষোভের কথা শোনার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলি বলে, কমিটির চার সদস্যই অতীতে কৃষি আইনের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। সুতরাং আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলের কর্মসূচি পালিত হবেই।
কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, ট্র্যাক্টর মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। তাদের বক্তব্য, ২৩ তারিখে দিল্লিতে কুচকাওয়াজের রিহার্সাল হবে। ২৮ জানুয়ারি শহরে শোভাযাত্রা করবে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর। ২৯ জানুয়ারি হবে বিটিং দ্য রিট্রিট। ৩০ জানুয়ারি পালিত হবে 'শহিদ দিবস'। এই অনুষ্ঠানগুলিতে বিঘ্ন ঘটলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি তো হবেই, সেই সঙ্গে সারা দেশই অস্বস্তিতে পড়বে। সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতিরা কৃষক সংগঠনগুলিকেও নোটিশ পাঠিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, কৃষি আইন নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়নি। দুই দশক ধরে আলোচনার পরে ওই আইন করা হয়েছে। দেশের কৃষকরা ওই আইনে খুশি হয়েছেন। এর ফলে তাঁরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে মোদী সরকার চেষ্টা করছে যাতে কৃষকদের মধ্যে থেকে ওই আইন নিয়ে ভুল ধারণা দূর করা যায়।