
শেষ আপডেট: 24 May 2020 18:30
গর্ভকালীন সময় মায়ের শরীরে এই প্লাসেন্টা (Placenta) তৈরি হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে গর্ভফুলও বলে। এই প্লাসেন্টা জরায়ুর দেওয়ালে লেগে থাকে। নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে যেখানে ভ্রূণ তৈরি হয় সেখানেই এই প্লাসেন্টা তৈরি হয়। এর কাজ হল সেতুর মতো। নাভির মাধ্যমে জরায়ু ও ভ্রূণের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। এর কাজ হল মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণকে খাবার, অক্সিজেন সরবরাহ করা। ভ্রূণের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবারহ করে এই প্লাসেন্টাই। তাছাড়া ভ্রূণের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ভ্রূণের রক্ত থেকে বর্জ্য পরিষ্কার করা, সংক্রমণ ঠেকানো ইত্যাদিও কাজ করে প্লাসেন্টা।
গবেষকরা বলছেন, জরায়ুর সঙ্গে ভ্রূণকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখা প্লাসেন্টার অন্যতম কাজ। জরায়ুর দেওয়ালের কোন অংশে প্লাসেন্টা থাকছে সেটা জানা যায় আলট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে। সামনের দিকে থাকলে অ্যান্টেরিয়র প্লাসেন্টা, পিছনের দিকে থাকলে পোস্টেরিয়র প্লাসেন্টা, জরায়ুর দেওয়ালের উপরের অংশের থাকলে ফান্ডাল পজিশন, ডাইনে বা বামে থাকলে রাইট বা লেফট ল্যাটারাল পজিশন। গবেষক এমিলি মিলার বলছেন, কোভিড পজিটিভ মায়েদের শরীরে এই প্লাসেন্টার অবস্থান বদলে যাচ্ছে কিনা সেটাই চিন্তার কারণ। যতটুকু তথ্য পাওযা গেছে তাতে দেখা গেছে, প্লাসেন্টায় ক্ষত তৈরি হচ্ছে। রক্তপ্রবাহ অনিয়মিত হয়ে যাচ্ছে। ভয়ের কারণ এখনই আছে কিনা সেটা স্পষ্ট করতে পারেননি গবেষকরা, তবে এমিলি বলছেন শঙ্কার কারণ থেকেই যাচ্ছে।
অধ্যাপক জেফরি গোল্ডস্টেইন বলছেন, এই প্লাসেন্টা যদি লো-লোয়িং হয় অর্থাৎ জরায়ুর একেবারে নীচের অংশ বা জরায়ুমুখের সঙ্গে লেগে যায় তাহলে একটা জটিল অবস্থা তৈরি হয় যাকে প্লাসেন্টা প্রেভিয়া বলে। এই অবস্থা তৈরি হলে যোনি পথে প্রসবে জটিলতা তৈরি হয়। অনেক সময় প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তপাতও হয়। কোভিড সংক্রমণ তেমন কিছু জটিলতা তৈরি করছে কিনা সেটাই বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। গোল্ডস্টেইন বলছেন, করোনাভাইরাস প্লাসেন্টাকে অতিক্রম করতে পারবে না। ওর যাবতীয় আক্রোশ পড়বে প্লাসেন্টার উপরেই। তাই সেখানেই ক্ষত তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। কীভাবে প্লাসেন্টা অবধি পৌঁছে ভাইরাস তার সংক্রমণের জাল বিস্তার করার চেষ্টা করছে সেটা নিয়ে এখন মাথা ঘামাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। গোল্ডস্টেইন বলছেন, জরায়ু অবধি ভাইরাসের পৌঁছবার রাস্তাকে যদি বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাহলেই মায়ের থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়াবার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।