দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সেনা আদালত ভারতীয় বন্দি কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা করতে বলছে আন্তর্জাতিক আদালত। বুধবার পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, কুলভূষণের জন্য আর্মি অ্যাক্ট বদলাতে চলেছে সেদেশের সরকার। তার ফলে কুলভূষণ অসামরিক আদালতে প্রাণভিক্ষার জন্য আর্জি জানাতে পারবেন। এতদিন পাকিস্তানে আইন ছিল, সেনা আদালতে কাউকে শাস্তি দিলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না।
কুলভূষণ যাদব নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। পাকিস্তানের অভিযোগ, তিনি চরবৃত্তি করতে সেদেশে ঢুকেছিলেন। ভারতের পালটা বক্তব্য, কুলভূষণ তাঁর ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচরেরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল দিল্লিও। তার বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানে ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্মীরা কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। দিল্লির অভিযোগেই সায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।
আবদুলকোয়াই ইউসুফ রাষ্ট্রপুঞ্জে বলেন, “আমাদের বিচার্য বিষয় ছিল, ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পাকিস্তান কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্মীদের দেখা করতে দিতে বাধ্য কিনা। আমরা দেখেছি, ভিয়েনা কনভেনশনে কোথাও বলা হয়নি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যাঁরা ধরা পড়বেন, তাঁদের সঙ্গে দূতাবাস কর্মীদের দেখা করতে দেওয়া হবে না।
কুলভূষণ যাদব সম্পর্কে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তাঁকে গ্রেফতার করার তিন সপ্তাহ পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেকথা জানায়। এক্ষেত্রেও তারা ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলেটকে জানানো উচিত ছিল।
২০১৬ সালের ২৫ মার্চ কুলভূষণ গ্রেফতার হন। তার ২২ দিন পরে পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আইজাজ আহমেদ ইসলামাবাদে ভারতের হাইকমিশনারকে সেকথা জানান। পাকিস্তান জানায়নি কেন গ্রেফতারের পরে সেকথা জানাতে তাদের ২২ দিন লাগল।