দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) গাইডলাইন মেনেই দ্রুত স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য অ্যান্টিবডি নির্ভর র্যাপিড টেস্ট-কিট বানাতে শুরু করল ভারতের দুই সংস্থা। এই র্যাপিড টেস্ট কিটের (আরটিকে) জন্য বরাত দেওয়া হয়েছিল নয়াদিল্লির ভ্যানগার্ড ডায়াগনস্টিকস, কেরলের এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড ও গুজরাটের ভক্সটার বায়ো লিমিটেডকে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের (CDSCO) সবুজ সঙ্কেত মেলার পরেই এইচএলএল ও ভক্সটারে টেস্ট-কিট বানানো শুরু হয়ে গেছে। এই দুই সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রথম দফায় প্রায় এক লক্ষ আরটিকে পৌঁছে যাবে দেশের নানা প্রান্তে।
গত ১৪ এপ্রিল থেকে আরটিকে বানানো শুরু হয়েছে কেরলের এইচএলএল লাইফকেয়ারে। সংস্থার ডিরেক্টর ই এ সুব্রহ্মণম বলেছেন, হরিয়ানার মানেসরের প্লান্টে এই টেস্ট কিট বানানো চলছে। এক একদিনে ২৫ হাজার আরটিকে বানানোর চেষ্টা চলছে, যাতে ২০ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত এক লাখ র্যাপিড টেস্ট কিট সরকারের হাতে তুলে দেওয়া যায়।
সুরাটের ভক্সটার বায়ো জানিয়েছে, চিন বা অন্য দেশের উপর নির্ভর করার কোনও মানেই হয় না। সংস্থার সিইও খুশরু পাস্তাকিয়া বলেছেন, “এক মাসে এক কোটি টেস্ট-কিট বানানোর ক্ষমতা আমাদের আছে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন মেলার পরেই টেস্ট-কিট বানানো শুরু হয়ে গেছে। কিট বানানোর কাঁচামালও তৈরি হয় আমাদের সংস্থায়।”
দ্বিতীয় দফায় লকডাউন ঘোষণার পরেই দেশের ১৭০টি জেলাকে সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এই প্রতিটি হটস্পটের বাসিন্দাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফাস্ট-ট্র্যাক কিটের সাহায্যে করার পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ। এর পাশাপাশি আইসিএমআর দেশের সব করোনাভাইরাস হটস্পটের বাসিন্দাদের অ্যান্টবডি টেস্ট করার পরামর্শও দিয়েছে। ভারতে এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরতে আরটি-পিসিআর (RT-PCR Test) অর্থাৎ রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন টেস্ট চালু রয়েছে। তবে আরটি-পিসিআর টেস্ট যেমন খরচসাপেক্ষ, তেমনি এতে সময়ও লাগে অনেক। চটজলদি বহু মানুষের নমুনা থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করার জন্য তাই অ্যান্টিবডি নির্ভর র্যাপিড টেস্ট-কিটের পরামর্শই দিয়েছে আইসিএমআর।
তবে এখনও দেশে আরটিকে-র সংখ্যা সীমিত। তাই চিনকে ৭ লক্ষ ব়্যাপিট টেস্ট কিটের অর্ডার দেয় ভারত। মনে করা হয়েছিল ৮ এপ্রিলের মধ্যেই তা এসে পৌঁছবে। কিন্তু কার্গো বিমানের সমস্যার কারণে তা এসে পৌঁছয়নি প্রত্যাশিত সময়ের বেশ কিছুদিন পরেও। এই অবস্থাতেই বিকল্প হিসেবে দেশীয় সংস্থাগুলির কথা ভাবে মোদী সরকার। আইসিএমআর সূত্রের খবর, তাদের চাহিদা ৪৫ লক্ষ কিটের।
আরটি-পিসিআর হল এমন একটি টেস্ট যাতে ধরা যায় শরীরে বাসা বাঁধা ভাইরাসের জিনোমের প্রকৃতি কী। অর্থাৎ সেটি আরএনএ ভাইরাস কিনা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে আরটি-পিসিআর টেস্টেই নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে এই টেস্ট করতে বহু সময় লাগে এবং খরচও অনেক। চটজলদি পরীক্ষার জন্য স্ক্রিনিং-টেস্ট কার্যকরী। অ্যান্টিবডি টেস্ট হল এমনই একটি স্ক্রিনিং-টেস্ট (Screening Test)। ভাইরাস আক্রান্ত হলে শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তার বিশ্লেষণ করেই ওই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা সেটা ধরা যায় অ্যান্টিবডি টেস্টে। উপসর্গ যদি দেখা না যায় তেমন ভাবে, তাহলে প্রথম ব়্যাপিড টেস্টের পরে আরও দশ দিন অপেক্ষা করে আরও একটি ব়্যাপিড টেস্ট করতে হবে। সেক্ষেত্রে নেগেটিভ এলে চিন্তামুক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু ফের যদি পজিটিভ আসে, তাহলে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ বাড়াতে হবে আরও ১০ দিন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তখন সেই ব্যক্তির আরটি-পিসিআর টেস্ট করা যেতে পারে।
চেন্নাইয়ের সিপিসি ডায়াগনস্টিকসকে ‘কেমি লুমিনিসেন্স ইমিউনো অ্যাসে’ বা সিএলআইএ-অ্যান্টিবডি টেস্ট-কিটের জন্যও অনুমোদন দিয়েছে আইসিএমআর ও কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। এই টেস্ট র্যাপিড অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং টেস্টের থেকে কিছু আলাদা, কিন্তু দ্রুত সংক্রমণ ধরতে পারে। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই টেস্ট-কিটের সাহায্যে এক ঘণ্টায় ১০০টি স্যাম্পেল পরীক্ষা করা যাবে।