
শেষ আপডেট: 10 July 2023 06:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের টানে ঘর-সংসার-সন্তান ছেড়ে এসেছিলেন। প্রেমিকাও ছেড়েছিলেন নিজের সংসার। দুজনে পালিয়ে গিয়ে লিভ ইন (Live in) শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রেমিকা বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া শুরু করতেই গোলমাল বাঁধে। অশান্তির জেরে একসময় সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন বলে জানান প্রেমিকা। এতেই সমস্যার সূত্রপাত। তাঁকে ছেড়ে গেলেই তিনি নিজেকে শেষ করে দেবেন, এই হুমকি দিয়ে একের পর এক সুইসাইড নোট লিখতে শুরু করলেন প্রেমিক। শুধু চিঠিতেই নয়, ঘরের দেওয়ালেও ভালবাসার আখ্যান লেখা শুরু হল। ভয় পেয়ে ১৮১তে ফোন করে হেল্পলাইনে সাহায্য চান প্রেমিকা। তারপরেই সাহায্যকারী দল তাঁদের বাড়ি থেকে প্রেমিকের হাতে লেখা ৫০টিরও বেশি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে (man writes 50 suicide notes)!
ঘটনাটি গুজরাতের আমদাবাদের সরখেজ এলাকার। ৩৪ বছর বয়সি অঙ্কিতা (নাম পরিবর্তিত) তাঁর প্রেমিক আনন্দের (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। আনন্দ আবার তাঁরই ননদের স্বামী ছিলেন। সূত্রের খবর, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সি অঙ্কিতা ২০১১ সালে প্রথমবার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই বিয়ে ২ বছরও টেকেনি। বিচ্ছেদের পর ২০১৪ সালে ফের বিয়ে করেন তরুণী। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করে অঙ্কিতার স্বামী।
সেই সময় অঙ্কিতা ও তাঁর স্বামীর দাম্পত্য সমস্যা মেটাতে তাঁদের বাড়ি যাতায়াত শুরু করেন তাঁর ননদ ও ননদের স্বামী আনন্দ। এই সময়েই আনন্দের সঙ্গে অঙ্কিতার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রেমে পড়ে যান দুজন। সেই প্রেমের টানেই ৯ মাসের শিশু সন্তানকে রেখে ঘর ছাড়েন আনন্দ। অঙ্কিতাও স্বামীকে রেখে আনন্দের হাত ধরে পালিয়ে যান।
এর ২ মাস পর ফের বাড়িতে ফিরে আসেন দুজনে। যে যার সঙ্গীর থেকে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে একত্রবাস শুরু করেন। আনন্দের সন্তানের হেফাজতও পান তাঁরা। এই অবধি সব ঠিকই ছিল। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন আনন্দকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন অঙ্কিতা। আনন্দ একদিকে যেমন বিয়ে করতে রাজি হননি, তেমনই অঙ্কিতাকে প্রবলভাবে আঁকড়ে ধরতে শুরু করেন। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে যাবেন বলে জানান অঙ্কিতা।
এরপরেই আনন্দ প্রেমিকাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অঙ্কিতা তাঁকে ছেড়ে চলে গেলে আত্মহত্যা করবেন তিনি। তাঁর সেই দমবন্ধকর প্রেমের বহিঃপ্রকাশ হতে শুরু করে বিভিন্নভাবে। একের পর এক সুইসাইড নোট লিখতে শুরু করেন তিনি। এমনকী, ঘরের দেয়ালজুড়ে অঙ্কিতার প্রতি তাঁর ভালবাসার কথা ব্যক্ত করতে শুরু করেন।
ভয়ে, আতঙ্কে শেষমেশ ১৮১তে ফোন করে অভয়ম হেল্পলাইনে সাহায্য চান অঙ্কিতা। তাঁর ফোন পেয়ে কাউন্সেলরদের একটি দল গিয়ে পৌঁছায় তাঁদের বাড়িতে। তাঁরাই বাড়ি থেকে আনন্দের হাতে লেখা ৫০টিরও বেশি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দুজনকে দীর্ঘক্ষণ কাউন্সেলিং করার পর তাঁরা বুঝতে পারেন, আনন্দ এক রকম মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁকে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন কাউন্সেলররা। তবে এসবের পর অঙ্কিতা আর আনন্দের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি। আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার কোনও উপায় নেই বুঝতে পেরে নিজের মা-বাবার কাছে ফিরে গেছেন তিনি।
এগরায় ধুন্ধুমার, স্ট্রং রুমে ব্যালট পেপারে কারচুপির অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি