দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমরা চাই না যুদ্ধ শুরু হোক। কিন্তু যুদ্ধ যদি হয়, আমরা শেষ অবধি লড়াই করব। মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার। তাঁর কথায়, আমরা ইরানে উত্তেজনা কমাতে চাই। সেখানে যুদ্ধ করতে চাই না। তবে যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুত আছি। অর্থাৎ ইরানে যুদ্ধে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
গত শুক্রবার বাগদাদে আমেরিকার ড্রোন হামলায় ইরানের মিলিটারি কম্যান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হন। তারপরে ইরান সহ পুরো পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্ক এসপার সেই ড্রোন হামলাকে সমর্থন করে বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা খবর দিয়েছিলেন, সুলেমানি মার্কিন নাগরিকদের ওপরে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। সেই ছক ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্যই ড্রোন হামলা চালানো দরকার ছিল।
সোলেমানির মৃত্যুর বদলা নিতে বুধবার ভোররাতে ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন সেনা ক্যাম্পে এক ডজন মিসাইল ছোড়ে ইরান। এই আক্রমণে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর পেন্টাগনের তরফে বলা হয়েছে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ এখনও পর্যন্ত পুরো ছবিটা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। একবার সব খবর আসার পরেই বলা সম্ভব হবে। তবে পেন্টাগনের তরফে বলা হয়েছে, “এটা নিশ্চিত যে মিসাইলগুলি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছে। ইরাকে অবস্থিত অন্তত দুটি মার্কিন সেনা ক্যাম্পে আঘাত করেছে এই মিসাইলগুলি।” এই হামলার পরে ইরাকে থাকা অন্য ক্যাম্পগুলির সেনাদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনার সুরক্ষার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরাকের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।
অবশ্য এই হামলার পরেও অবিচল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “সব ঠিক আছে।” ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে এই ক্যাম্পগুলিতেই গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই হামলার পরে ট্রাম্প টুইট করে বলেন, “কতটা ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সবকিছু ভালই আছে।”
ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রচার হওয়া খবর অনুযায়ী, দেশের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড কাসেম সোলেমানির হত্যার বদলা নেওয়া শুরু করেছে ইরান। সোলেমানিকে হত্যা করার দাম আমেরিকাকে দিতে হবে। ইরানের আইন আল আসাদ বেস থেকে এদিন ১২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে। মিসাইলগুলি নিজেদের লক্ষ্যেই আঘাত করেছে। এই হামলায় প্রচুর মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। আমেরিকা একথা না মানলেও ইরানের কাছে রিপোর্ট রয়েছে। এই হামলা দিয়েই সোলেমানির হত্যার জবাব দেওয়া ইরান শুরু করল বলেই জানানো হয়েছে ইরানের তরফে।