দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাইসেড যে টেস্ট কিট সরবরাহ করেছে তা দিয়ে রোগীর নমুনা পরীক্ষার সময় বহু ক্ষেত্রেই অমীমাংসিত ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। নবান্নের বক্তব্য, ওই টেস্ট কিটগুলি ত্রুটিপূর্ণ। দু’সপ্তাহ আগে ওই কিটগুলি সরবরাহ করেছে আইসিএমআর-নাইসেড। বহু ক্ষেত্রে অমীমাংসিত ফল আসায় নিশ্চিত হতে রিপিট টেস্ট করতে হতে। সেই কারণেই ফাইনাল টেস্ট রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, অবিলম্বে আইসিএমআর-কে এই ব্যাপারটি নিষ্পত্তি করতে হবে। এমন নয় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এই সমস্যা হচ্ছে, দেশের অন্য ল্যাবগুলিও এ জন্য ভুগছে।
রবিবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে দীর্ঘ টুইট করে স্বাস্থ্য দফতর। তাতে বলা হয়, গোড়ার দিকে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে সরাসরি যে টেস্ট কিট পাঠানো হচ্ছিল তাতে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু হালফিলে কলকাতা স্থিত আইসিএমআর-নাইসেডের মাধ্যমে সরকারি ল্যাবে টেস্ট কিট সরবরাহ করা হচ্ছে।
দেখুন সেই টুইট।
https://twitter.com/wbdhfw/status/1251881852186447872
কলকাতার নাইসেড ডিরেক্টর শান্তা দত্ত স্বাস্থ্য দফতরের এই অভিযোগ উড়িয়ে দেননি। তবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সমস্যার বিষয়টি আইসিএমআর-ও জানে। গোড়ার দিকে পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পুণে যে কাজটি করছিল, এখন টেস্ট কিটের চাহিদা বাড়ায় তা তাদের পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না।
কী করছিল পুণের সংস্থা?
শান্তা দত্ত জানিয়েছেন, এই টেস্ট কিটগুলি দিয়ে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করার আগে সেগুলি স্ট্যান্ডার্ডাইজড করতে হয়। আমেরিকা থেকে ওই টেস্ট গোড়ায় আমদানি করা হয়েছিল। তার পর সেই ‘প্রাইমার’ ও ‘প্রোব’গুলির সঙ্গে রিএজেন্ট সংযোজিত করে তা স্ট্যান্ডার্ডাইজড করছিল পুণের সংস্থা। তার পর তা সরবরাহ করা হচ্ছিল গোটা দেশের ভিআরডিএল-গুলিকে (ভাইরাল রিসার্ট ডায়োগোনস্টিক ল্যাব)। এখন টেস্ট কিটের চাহিদা বাড়ায় সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আইসিএমআর রেডিমেড কিট কিনে তা দেশের ২৬টি ডিপোর মাধ্যমে ভিআরডিএল-গুলিকে সরবরাহ করছে।
শান্ত দত্ত আরও বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে টেস্ট কিটগুলি স্ট্যান্ডার্ডাইজড করা হচ্ছে না। মেডিক্যাল কলেজগুলির পক্ষেও তা করা কঠিন। তাই অনেক সময়েই অমীমাংসিত রেজাল্ট দেখাচ্ছে। তিনি জানান, ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আইসিএমআর।
প্রসঙ্গত, কদিন আগে শান্তা দত্তই অভিযোগ করেছিলেন যে স্বাস্থ্য দফতর নাইসেডে পর্যাপ্ত সংখ্যা নমুনা পাঠাচ্ছে না টেস্টের জন্য। অথচ নাইসেডের পরিকাঠামো রাজ্যের ল্যাবের থেকে ভাল। তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, নাইসেডে সাড়ে ২৭ হাজার টেস্ট কিট এসে পড়ে রয়েছে। তার পরেও নমুনা পর্যাপ্ত হারে পাঠানো হচ্ছে না।
এদিন স্বাস্থ্য দফতরের টুইটের পর নাইসেডের এক কর্তা বলেন, রাজ্য সরকারের মেডিক্যাল কলেজ কিটগুলি স্ট্যান্ডার্ডাইজড করতে পারছে না। সেই অভিজ্ঞতা তাদের নেই। নাইসেডের তা রয়েছে। নমুনা নাইসেডে পাঠালে হয়তো এতোটা সমস্যা হত না।