দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষিতার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া কথা ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়া হবে একটি বাড়িও। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হবে।
শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য্য বলেন, "নির্যাতিতার পরিবার ঠিক যেমনটা চাইছেন সেভাবেই তদন্ত এগোবে। মৃত্যুর আগে তরুণী অভিযুক্তদের যে নামগুলো বলে গিয়েছিলেন তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। কোনও অভিযুক্তকে রেওয়াত করা হবে না।"
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে যাওয়ার পথে উন্নাওয়ের ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত। নব্বই শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে লখনউয়ের হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছিলেন তিনি। অবস্থা ক্রমে খারাপ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু চিকিৎসকরা শত চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। শুক্রবার রাত ১১ টা ৪০ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় তরুণীর।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে বাঁচার জন্যই লড়াই করছিল তাঁদের মেয়ে। দগ্ধ শরীরের যন্ত্রণাকে হারিয়ে জীবনকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছিল। শুক্রবার রাত ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। তার আগে শেষবার বলেছিল, “বাঁচান আমাকে। মরতে চাই না আমি। দোষীদের ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে চাই।”
উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে সারা দেশেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছিল। শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর খবরটা আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। বিক্ষোভ জমেছে সরকারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর মুখ না খুললেও শনিবার সকালে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “এর থেকে নৃশংস ঘটনা আর হতে পারে না। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হবে।” যোগী এও বলেন, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। উন্নাওয়ের মতো ঘটনা যাতে উত্তরপ্রদেশে আর না ঘটতে পারে সেজন্য পুলিশ ও প্রশাসন সবরকম চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন দুপুরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর সরকারের দুই মন্ত্রী কমল রানি বরুণ ও স্বামী প্রসাদ মৌর্য্যকে দায়িত্ব দেন উন্নাও ঘুরে আসার জন্য। সেখানে মৃত তরুণীর বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁদের। গাড়ি উন্নাওয়ে এসে পৌঁছলেই শুরু হয় বিক্ষোভ। মন্ত্রীদের গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ। শনিবার সকালেই বিধান ভবনের বাইরে ধর্নায় বসার কর্মসূচি নিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, আর রাজ্যের সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”

অন্যদিকে শনিবারে উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়ি যান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। তার আগে টুইটে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “হায়দরাবাদের ঘটনার পরে উন্নাওয়ের ঘটনা ঘটেছে। কেন নির্যাতিতা তরুণীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারল না প্রশাসন?” তিনি উন্নাওয়ের অন্য ধর্ষিতার উদাহরণ টেনেছেন। যে মামলায় মূল অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনগার। গত জুলাই মাসে ওই নির্যাতিতা যখন উকিলের বাড়িতে যাচ্ছিলেন, ট্রাক দিয়ে পিষে দেওয়ার চেষ্টা হয় তাঁদের গাড়িকে। সনিয়া-কন্যা ওই ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেছেন, “একই জেলায় কয়েক মাসে যখন এই ঘটনা ঘটল, তখন কেন প্রশাসন সতর্ক হল না?”