দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ঘূর্ণিঝড় উমফানের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত গোয়ালঘর বা পোলট্রি ফার্মের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। সেইমতো ভাতার ব্লকে ২৬ জন উপভোক্তার নামের তালিকা তৈরি হয়। তিন মাস আগেই ওই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ হয়ে গেলেও এখনও টাকা পাননি এই উপভোক্তারা।
এই ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার ভাতার ব্লক প্রাণীসম্পদ বিকাশ আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জমা দিলেন ওই উপভোক্তারা। একই সঙ্গে তাঁরা ভাতারের বিডিওর কাছেও নালিশ জানিয়েছেন। উপভোক্তাদের দাবি, সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা পড়েনি। ওই টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। যদিও ভাতার ব্লক প্রাণীসম্পদ বিকাশ আধিকারিক শঙ্খ ঘোষ এই নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমার কিছুই জানা নেই। যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবে।’’
উমফানে গোয়ালঘর ও পোলট্রি ফার্মের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভাতার ব্লকে এমন মোট ২৬ জনের নামের তালিকা তৈরি হয়। ওই তালিকা ভাতার ব্লক প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের অফিস থেকে তৈরি করে তখন পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগকারীদের মধ্যে আবদুল রউফ, সঞ্জিত দাসরা বলেন, ‘‘আমরা কয়েকমাস আগেই আবেদন করেছিলাম। তারপর জেলাপরিষদ অফিসে একজনের কাছে জানতে পারি আমাদের ২৬ জনের টাকা চলে এসেছে। কিন্তু কারও আ্যাকাউন্টেই সেই টাকা ঢোকেনি। ওই টাকা কোথায় গেল তা সন্দেহজনক। তাই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’’
আবেদনকারীদের মধ্যে অয়ন ঘোষ, রঞ্জিতকুমার ঘোষরা বলেন, ‘‘আবেদনপত্রে যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলাম সেটা আমাদের নিজস্ব নম্বর ছিল। পরে জানতে পারি কারও কারও ওই নম্বর পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল তার তদন্তের দাবিও করেছি।’’
এদিন ভাতার ব্লক প্রাণীসম্পদ বিকাশ আধিকারিকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন অভিযোগকারীরা। তারপর আধিকারিক আশ্বাস দিলে তাঁরা অভিযোগপত্র জমা দিয়ে চলে যান। পাশাপাশি ভাতারের বিডিওর কাছেও অভিযোগের প্রতিলিপি জমা দিয়েছেন তাঁরা।