দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: এবার বাড়ি না থাকলেও বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ পেলেন এক মহিলা। পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাই পুর এলাকায়। অভিযোগ ক্ষীরপাই পুরসভার বর্তমান প্রশাসক দুর্গাশঙ্কর পান নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির এক পরিচারিকার নামে আমফানের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগ দুর্গারানি ভুঁইয়া নামে ওই মহিলা দুর্গাশঙ্কর পানের বাড়িতে ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন। ক্ষীরপাই পুরএলাকায় তার নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। তবুও তিনি টাকা পেয়েছেন। কারণ তিনি দুর্গাশঙ্কর পানের পুরোনো ভাঙা বাড়িতেই থাকেন।
কীভাবে ক্ষতিপূরণের তালিকায় দুর্গারানি ভুঁইয়ার নাম আসল, তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্ষীরপাই। বুধবার দুপুরে ক্ষীরপাই পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। রাজ্যে একাধিক পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকায় বহু পাকা বাড়ির মালিক, ঘূর্ণিঝড়ে যাঁদের বাড়ির কোনও ক্ষতিই হয়নি, তাঁদের নামও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বলে অভিযোগ। সিপিএম -বিজেপির অভিযোগ এক্ষেত্রেও ক্ষীরপাই পুরসভার বর্তমান প্রশাসক দুর্গাশঙ্করবাবু নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বাড়ির পরিচারিকার নাম উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তুলে দিয়েছেন।
বিজেপির ঘাটালের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যে এই দুর্নীতি করেছে শাসকদল। সাধারণ মানুষ যাঁদের যথার্থ ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাননি। তৃণমূলের নেতা কর্মী ও তাঁদের অনুগামীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গেছে। এখানেও পুরপ্রশাসক তাঁর বাড়ির পরিচারিকার নাম ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তুলে দিয়েছেন, যাঁক কোনও বাড়িই নেই। থাকেন পুর প্রশাসকের বাড়িতেই।’’ স্থানীয় সিপিএম নেতা বরেন্দ্রনাথ বসু বলেন, ‘‘ আমরা প্রথম থেকে বলছিলাম উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি নিয়ে দুর্নীতি চলছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পাচ্ছেন না। যতদিন যাচ্ছে ততই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে হয়ে লড়তেই হবে।’’
ক্ষীরপাই পুরসভার প্রশাসক দুর্গাশঙ্করবাবু বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরই একটি ভাঙা বাড়িতে থাকেন দুর্গারানি। সেই বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তাই বাড়ি মেরামতির জন্যই দুর্গারানির নাম ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তোলা হয়েছিল।
দুর্গারানি নিজেও স্বীকার করেছেন তিনি দীর্ঘদিন ক্ষীরপাই পুরসভার প্রশাসকের বাড়িতে কাজ করেন। ক্ষীরপাইয়ে তাঁর নিজস্ব কোনও বাড়ি না থাকায় দুর্গাশঙ্করবাবুর একটি ভাঙা বাড়িতে থাকেন।
পুর প্রশাসকের এই বক্তব্য জানার পরেই বিরোধীদের ক্ষোভের আঁচ তীব্র হয়েছে আরও।