
শেষ আপডেট: 19 May 2020 08:03
আয়লার পরে এই এলাকায় ৪০০টি ফ্লাড সেন্টার তৈরি করা হয়। এখানেই নিয়ে আসা হচ্ছে বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে প্রায় এক লক্ষ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক পি উল্গানাথন জানান, প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর ব্লকে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আয়লা ও বুলবুলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’’ কাকদ্বীপে বসে সমস্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তিনি।
সাগরের কেওরাখালি, পাথরপ্রতিমা, গোবর্ধনপুর, সীতারামপুর, বুড়োবুড়ির চরের মানুষকে সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র সহ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে রাতেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে আসা হয় ফ্লাড সেন্টারে।
আয়লার ঝড়ের সময় আড়াই ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বহু গ্রাম। সেই অভিজ্ঞতার কথা এখনও মনে রেখেছেন রায়দিঘির দমকল সীমানা ঘাটের বাসিন্দারা। তাঁরা জানালেন, সে সময় কোনও মতে শুধু বাঁচাতে পেরেছিলেন প্রাণটুকু। কিন্তু হারিয়ে গেছে অনেক কিছু। হারিয়েছেন পরিজন। হারিয়েছেন ঘরবাড়ি। আবার আসছে ঝড়। এবার কী হবে কে জানে!
তাঁদের যোগাযোগের উপায় সীমানার জেটিঘাট আগেই নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্তমানে এই জেটিকে বাঁশ দিয়ে মূল স্থলভাগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেটি সংলগ্ন প্রায় ৩ কিমি নদীবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, ঝড় আসলে সেই নড়বড়ে নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকবে। আয়লা, বুলবুলের স্মৃতি থেকে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা।