
শেষ আপডেট: 22 July 2020 10:45
সরকারি নিয়মকে উপেক্ষা করে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বিভিন্ন বাগানে তৈরি হয়েছে পাথরের হাব। জেসিপি এবং বড় বড় আরও কিছু মেশিন ব্যবহার করে পাথর ভর্তি করা হচ্ছে ট্রাক। তারপর তা পৌঁছে যাচ্ছে সীমান্তে। একটি ৬ চাকার ট্রাকে ৯ থেকে ১০ টন পাথর বোঝাই করার ছাড়পত্র দেওয়া হয় রাজ্য পরিবহণ দফতর থেকে। কিন্তু এখানে সেই ৬ চাকার গাড়িতে পাথর বোঝাই হয় ২০ থেকে ২২ টন। ঠিক একইভাবে ১০ চাকার গাড়িতে ১৬ টন পাথর নেওয়ার অনুমতি থাকলেও সেখানেও নেওয়া হয় ৪০ টনেরও বেশি। পরিবহণ দফতরের হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন কয়েক হাজার ওভারলোডিং ট্রাক যাতায়াতের ফলে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে কোটি টাকারও বেশি। অন্য দিকে আমের সময় বাগানের ক্ষতি করে কৃষি জমির চরিত্র পরিবর্তন না করেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চলছে এই সমস্ত বেআইনি কাজ কারবার। সব জেনেও নিশ্চুপ প্রশাসন।
পাথরের অবৈধ কারবার নিয়ে মানিকচকের কংগ্রেস বিধায়ক মোত্তাকিন আলম জানান, পুলিশ প্রশাসনের এক শ্রেণির অধিকারিক এই অবৈধ পাথর কারবারে মাফিয়াদের মদত যোগাচ্ছে। বর্তমান মহামারীর সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলা এই কারবার অবিলম্বে বন্ধের দাবি তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘এই ওভারলোডিং গাড়ির জন্য মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। আমবাগানগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জেলার অর্থনীতিতে যার মারাত্মক প্রভাব পড়তে বাধ্য।’’
উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু দাবি করেন, ‘‘জেলা থেকে রাজ্য, শাসকদলের বহু নেতার পকেটে এই অবৈধ কারবারের টাকা পৌঁছে যায়। তাই পুলিশ সব দেখেও চুপ করে থাকে।’’ তাঁর আশঙ্কা, যে ভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে এই পাথরের কারবার চলছে তাতে আরও বেশি করে করোনা ছড়িয়ে যেতে পারে। এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন সাংসদ।
অভিযোগের সত্যতা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষও। তিনি বলেন, ‘‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্পকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওভারলোডিং পাথরের ট্রাক নিয়ে যাচ্ছে সীমান্তে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানানো হবে পুলিশ সুপারের কাছে।’’ তবে কারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন নীহাররঞ্জনবাবু।
মালদহের এসপি অলোক রাজোরিয়া জানান, মহদিপুর সীমান্তে বেআইনি কাজকর্ম চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিষয়টির তদন্ত চলছে। আইন ভেঙে ওভারলোডিং চলছে বলে শুনেছি। যাঁরা দোষী তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।’’