দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ট্রেনের যাত্রী যাঁদের কলকাতা যেতে হয় অফিস করতে তাঁদের জন্য চন্দননগর থেকে চালু করা হচ্ছে দ্রুতগামী লঞ্চ পরিষেবা। এই হাইস্পিড লঞ্চে দেড়ঘণ্টায় চন্দননগর থেকে কলকাতায় পৌঁছনো যাবে। প্রতিদিন চলবে এই দেড়শো আসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্পিড লঞ্চ।
চালু হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। কিন্তু ট্রেন চালু হয়নি এখনও। ভাড়া বিতর্কে পথে নামেনি বেসরকারি বাসও। তাই অফিসে পৌঁছতে ভরসা শুধুই সরকারি বাস। অফিস যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে চন্দননগর থেকে কলকাতার ফেয়ারলি পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে আগেই। ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে শ্রীরামপুর থেকে ফেয়ারলি পর্যন্তও। কিন্তু তাতে সময় বেশি লাগছে বলে অভিযোগ। তাই এবার চালু হচ্ছে হাইস্পিড লঞ্চ। ভাড়া অবশ্য একেক পিঠে ৩২০ টাকা।
চন্দননগর পুর নিগমের কমিশনার স্বপন কুন্ডু জানান,পয়লা জুলাই থেকে চালু হবে এই পরিষেবা। দেড়শো আসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই স্পিড লঞ্চে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য পুরোপুরি বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘অফিস যাত্রীদের কথা চিন্তা করে এর আগে হুগলির শেওড়াফুলি, শ্রীরামপুর, উত্তরপাড়া থেকে লঞ্চ পরিষেবা চালু হয়েছে। তাতে ভাড়া কম হলেও সময় লাগছে বেশি। তাই এই হাইস্পিড লঞ্চ চালু করা হল। এতে সময় লাগবে কম। দেড় ঘণ্টায় কলকাতা পৌঁছনো যাবে। চন্দননগর সহ হুগলি জেলার সমস্ত মানুষের সুবিধা হবে।’’
পুর কমিশনার জানান, www.ospreyindia.com থেকে অনলাইনে টিকিট বুক করা যাবে। চন্দননগর ছেড়ে শেওড়াফুলি শ্রীরামপুর ঘাটেও স্টপেজ দেবে দ্রুতগামী লঞ্চ। অফিসযাত্রীদের কথা ভেবে আপাতত এই পরিষেবা চালু হলেও পরে পর্যটন ক্ষেত্রেও এই হাইস্পিড লঞ্চ কাজে লাগানো হবে।
চন্দননগর থেকে ফেয়ারলি পর্যন্ত যে ফেরি সার্ভিস আগেই চালু হয়েছে সেখানে যাত্রী ভাড়া ৬০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৭টায় চন্দননগরের রানিঘাট থেকে ছেড়ে ভদ্রেশ্বর তেলেনিপাড়া, চাঁপদানী, শেওড়াফুলি, বাগবাজার হয়ে এই লঞ্চ কলকাতার ফেয়ারলি পৌঁছচ্ছে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। অফিসযাত্রীদের কথা ভেবে শ্রীরামপুর থেকেও ফেয়ারলি পর্যন্ত লঞ্চ চালু হয়েছে। এই লঞ্চের ভাড়া ৪৬ টাকা। হাতেগোনা সরকারি বাসে যেখানে বাদুরঝোলা হয়ে যেতে হচ্ছে, সেখানে ভাড়া কিছুটা বেশি লাগলেও কিছুটা অন্তত স্বস্তি ও স্বাচ্ছ্যন্দে যেতে পারছেন বলে যাত্রীদের একাংশের মত। তবে অনেকেরই আবার বক্তব্য, যেহেতু সামাজিক দূরত্ব মেনে লঞ্চ চালানো হচ্ছে না, তাই ভাড়াটা আরেকটু কম করাই যেত। তাই ৩২০ চাকার টিকিট কেটে অফিস যাওয়ার জন্য কতজন লঞ্চে উঠবেন তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।