গোপীনাথের পুজো হবেই, তাই অগ্রদ্বীপে সতর্কতামূলক প্রচারে জোর প্রশাসনের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : করোনা আশঙ্কায় অলিখিতভাবেই রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে জমায়েত। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত সিনেমা হল, স্টেড
শেষ আপডেট: 16 March 2020 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : করোনা আশঙ্কায় অলিখিতভাবেই রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে জমায়েত। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত সিনেমা হল, স্টেডিয়াম, প্রেক্ষাগৃহও বন্ধ রাখার জন্য আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যের বহু মঠ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ মঠ ও মন্দির প্রাঙ্গনে জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছেন। বাতিল হয়েছে একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান। ব্যতিক্রম অগ্রদ্বীপে গোপীনাথের মেলা। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে অগ্রদ্বীপে গোপীনাথের মেলা শুরু হওয়ার কথা।
রাজ্যের অন্যতম এই বৈষ্ণব মেলায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষের সমাগম হয়। ভিন রাজ্য তো বটেই, বাংলাদেশ থেকেও আসেন বহু মানুষ। অগ্রদ্বীপের বাসিন্দাদের অনেকেই তাই এই মেলা নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু উদ্যোক্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও পরিস্থিতিতেই পুজো হবে। মেলা কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আমরা গোপীনাথের পুজো করবই। ভক্তরা নিজেদের দায়িত্বে আসবেন, থাকবেন। আমরা কাউকে নিষেধ করব না। তবে প্রশাসন মেলা বন্ধ করলে করতে পারে।”
অনেক গ্রামবাসীও মনে করছেন পরম বৈষ্ণব গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ করতে যদি ভগবান চৈত্রমাসের কৃষ্ণা একাদশীতে মর্ত্যে নেমে আসতে পারেন, তাহলে করোনা ভাইরাস থেকে ভক্তদের ভগবানই রক্ষা করবেন।
এমন ভাবনায় ঘুম ছুটেছে পুলিশের। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় সোমবার মেলা চত্বর ঘুরে দেখেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি তিনি। জানা গেছে, অগ্রদ্বীপের মেলায় লোকসমাগম নিয়ে পুলিশ খুবই চিন্তিত। কীভাবে লাখো লোকের সমাগম ঠেকানো হবে, তা নিয়ে চলছে ভাবনাচিন্তা।

জনশ্রুতি, চৈত্র মাসের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে ভক্ত গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ করতে ভগবান গোপীনাথ স্বয়ং মর্ত্যে নেমে আসেন। আনুমানিক ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই তিথিতে গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হয়। হয় গোপীনাথের পুজো। এই অনুষ্ঠান দেখতে লাখো ভক্তের ভিড় হয়। চারদিন ধরে চলে মেলা। বসে কয়েকশো আখড়া। বাংলাদেশ থেকেও আসে ভক্তের দল।
এ বারের পরিস্থিতিতেও পিছিয়ে আসেননি উদ্যোক্তারা। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই অগ্রদ্বীপে করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতামূলক প্রচারে জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী। তিনি বলেন, “এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষকে সতর্ক করবেন। এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে কী করবেন, কী করবেন না তা সবাইকে বুঝিয়ে বলা হবে। তারপর মানুষই সিদ্ধান্ত নেবেন। ”