দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: উমফানের ত্রাণ বিলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বসিরহাটের কোঠাবাড়ি। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ছ’জন। জানা গেছে ত্রাণের টাকা না পেয়ে পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। অভিযোগ, তখন তাঁদের উপর চড়াও হন পঞ্চায়েত মেম্বার ও তাঁর স্বামী-সহ অন্য তৃণমূল নেতারা।
হিঙ্গলগঞ্জ জুড়েই উঠছে উমফানের ত্রাণ বিলি নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। এবার এই অভিযোগে উত্তপ্ত হল হিঙ্গলগঞ্জ থানার দুলদুলি পঞ্চায়েতের কোঠাবাড়ি গ্রাম। পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে উমফানের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত যাঁরা, তাঁদের কেউ ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। টাকা ঢুকেছে এলাকার শাসকদলের নেতা-কর্মীদের অ্যাকাউন্টে।
সোমবার সন্ধেবেলা এই ঘটনারই প্রতিবাদ জানাতে পঞ্চায়েতের মেম্বার মমতা সর্দার মুন্ডা ও তাঁর স্বামী আশুতোষ মুন্ডার বাড়ি গিয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। অভিযোগ তখনই এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের উপর চড়াও হয়। শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন বিমল মণ্ডল, রমেন গায়েন নামে দুই গ্রামবাসী। তাঁদের বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ছ’জন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পঞ্চায়েতের সদস্য মমতা সর্দার মুণ্ডা বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পাননি, সব টাকা ঢুকেছে তৃণমূল নেতাদের অ্যাকাউন্টে, গ্রামবাসীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। ক্ষতিগ্রস্ত যাঁরা তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। সবার অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে।’’
খবর পেয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উমফানের ক্ষতিপূরণ বিলি নিয়ে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে সুন্দরবন-সহ অন্যান্য বিভিন্ন এলাকা থেকে। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ওঠা এমন অভিযোগের জেরে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই একাধিক নেতাকে শোকজ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে একাধিকবার সতর্কও করা হচ্ছে। কিন্তু একশ্রেণির তৃণমূল নেতার বেপরোয়া মনোভাবে লাগাম পরানো যায়নি এখনও।
তবে হিঙ্গলগঞ্জের ঘটনা সম্পর্কে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন,‘‘ গ্রাম পঞ্চায়েত- পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে যদি কোনও প্রধান বা সদস্য উমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করে থাকেন তাহলে তার বিচার অবশ্যই হবে। কিন্তু বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস যৌথভাবে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদের নামে সন্ত্রাস করছে। আমরা রাজনৈতিক ভাবে এই সন্ত্রাসের মোকাবিলা করব। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার সংবিধান দেয়নি। পুলিশ প্রশাসন সবদিকে নজর রাখছে।’’