দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বন্ধ হয়ে গেল রাজগঞ্জে ব্রিটানিয়া বিস্কুট কোম্পানির অনুসারী একটি কারখানা। জেলাশাসককে অভিযোগ জানিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গের বণিকমহল।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ি ফালাকাটার কামারভিটা এলাকায় অবস্থিত ব্রিটানিয়া বিস্কুট কোম্পানির অনুসারী সঞ্জয় বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনার্স প্রাইভেট লিমিটেড। এখানে অচলাবস্থা চলছে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরেই। আনলক পর্ব চালু হওয়ার পর স্থায়ী কর্মী ছাঁটাই ও কিছু বহিরাগত শ্রমিককে কাজে যোগ দেওয়ানো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ঝামেলার সূত্রপাত। অভিযোগ, কিছু বহিরাগত শ্রমিক নিয়ে এসে কারখানা চালু করতে যায় মালিকপক্ষ। এতে বাধা দেন স্থানীয়রা। এরপর হস্তক্ষেপ করেন তৃণমুল শ্রমিক নেতা তপন দে। কিন্তু কয়েকটি বৈঠকে সমাধান সুত্র বের না হওয়ায় মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে শিল্পপতিদের সংগঠন নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।
কারখানার আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা তপন দে’র নেতৃত্বে গত ৯ মাস ধরে ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তাতে সমস্যাতো মেটেইনি, বরং বেড়েছে। শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ লেগে রয়েছে। ফলে উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা স্বত্বেও প্রতিমাসে ব্রিটানিয়া কোম্পানির দেওয়া টার্গেট পূরণ করতে পারছে না এই বিস্কুট কোম্পানিটি। বর্তমানে এই কারখানায় মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১৫০ জন। এঁদের মধ্যে ৫০ জন শ্রমিক বর্ধমান ও বীরভূম জেলার।
কারখানার মালিক অজয় আগরওয়াল বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে কিছুদিন কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছিল। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ধমান জেলা থেকে ৫০ জন দক্ষ শ্রমিক কারখানার কাজে যোগ দিতে এলে শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা বাধা দেন। যদিও সব ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ওই শ্রমিকদের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল। শ্রমিক সংগঠনের নেতা তপন দে’র মদতেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে কারখানা লকআউট করে দেওয়া হয়।’’
শ্রমিক নেতা তপন দে’র পাল্টা বক্তব্য, ‘‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। শ্রম আইন মেনে কারখানা চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। অথচ মালিকপক্ষ শ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে কয়েকজন স্থায়ী শ্রমিককে বেআইনি ভাবে ছাঁটাই করে অস্থায়ী শ্রমিক নিতে চাইছে। এই বেআইনি ছাঁটাই মেনে নেওয়া হবে না। তাই আমাদের আন্দোলন।’’
নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, ‘‘বর্ধমান থেকে আসা শ্রমিকদের স্থানীয় মগরাডাঙি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীদের কথা মেনে ওই শ্রমিকদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনেও রাখা হয়। এরপরও শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা দক্ষ ওই শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমনকি তাঁদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা রাজগঞ্জ বিডিও ও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে একরকম দাদাগিরি দেখান তৃণমুল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা তপন দে। ফলে মিটিং ভেস্তে যায়। আজ আমরা জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের সাথে দেখা করে বিস্তারিত জানিয়ে গেলাম।’’
রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় বলেন, ‘‘বিষয়টি দলের নজরে আনা হয়েছে। দলীয় স্তরে অভিযোগের তদন্ত করা হবে।’’ জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারিও বলেন, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’