দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ‘সম্মান’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেল বর্ধমানে। বৃহস্পতিবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা প্রকল্পের কার্ড ও একটি করে লিফলেট দিয়ে এলেন। ওই কার্ডেই পুলিশের হেল্প লাইনের মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে।
বাড়িতে থাকা একা নিঃসঙ্গ বয়স্কদের পাশে দাঁড়াতে গত ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ লাইনে ‘সম্মান’ নামে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইজি বর্ধমান রেঞ্জ ডি এল মিনা, পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধায়, অতিরিক্ত পুলিশসুপার কল্যাণ সিংহ রায়। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় জানান, আপাতত বর্ধমান শহরের ৩৫টি ওয়ার্ড থেকে ৫৮ জন নিঃসঙ্গ বয়স্ক মানুষকে নিয়ে এই সম্মান প্রকল্প শুরু হচ্ছে। এই ৫৮ জনকে একটি করে সম্মান কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কার্ডে থাকছে একটি সর্বক্ষণের হেল্প লাইন নম্বর। হেল্প লাইনে ফোন করে তাঁরা বিভিন্ন রকম সাহায্য পাবেন জেলা পুলিশের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘‘নথিভুক্ত সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে ফোন করে খবর নেওয়া হবে। মাসে একবার প্রতি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেবেন পুলিশ আধিকারিকরা। এছাড়াও যদি কোনও সদস্যের শারীরিক সমস্যা হয় তাহলে তাঁদের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’’
তিনি জানান, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশকিছু নার্সিংহোম ও ওষুধের দোকানকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার দিকটিও খেয়াল রাখা হবে। পেশাগত কারণে বা অন্য কোন কারণে পরিবারের অনেক সদস্যই বাইরে থাকেন। ফলে বাড়িতে একা পড়ে যান প্রবীণ মানুষরা। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে নানারকম সমস্যার মুখোমুখি হন। সেটা শারীরিক সমস্যাই হোক বা আইনগত। এই সব সমস্যা মেটানোর জন্যই এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
এদিন সম্মান প্রকল্পের কার্ড হাতে পেয়ে আপ্লুত শহরের বীরহাটা কালিতলার প্রবীণ নাগরিক মীরা সাহানা। তিনি বলেন ‘‘বাড়িতে কেউ থাকে না। সবাই কাজের জন্য বাইরে থাকে।পুলিশ কার্ডের পাশাপাশি একটি লিফলেট দিয়ে গেল। কার্ডেই পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া আছে। এতে আমাদের মতো মানুষের খুব সুবিধা হবে।’’ প্রবীণ নাগরিক জয়শ্রী যশ বলেন, ‘‘আমিও আজ এই সম্মান প্রকল্পের কার্ড হাতে পেয়েছি। আশাকরি বিপদে আর একা লাগবে না।’’