দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিন কেটেছে কি কাটেনি! এর মধ্যে ফের অধীর চৌধুরীর দুর্গে দাঁড়িয়ে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী তথা তৃণমূলের তরফে মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার মুর্শিদাবাদে জোড়া জনসভা করেন শুভেন্দু। একটি নওদায়, অন্যটি রেজিনগরে। আর দুটি সভা থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক। অধীর চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি-কে বাড়তে সাহায্য করারও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “রেজিনগরের অর্বাচীন হুমায়ুন কবীর কী বলেন? বলেন, আমার সঙ্গে দাদার পারিবারিক সম্পর্ক। ছিল,আছে থাকবে। বাহনকে আগে পাঠিয়ে পরে নিজে যাওয়ার রাস্তা পাকা করে রেখেছেন অধীর চৌধুরী।”
প্রসঙ্গত, এক সময় হুমায়ুন ছিলেন অধীরের বিশ্বস্ত সৈনিক। পরে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসেন হুমায়ুন। বিধায়ক না হয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে মন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, নিয়ামানুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে যে কোনও আসন থেকে ভোটে জিতে আসতেই হতো। রেজিনগরে ভোটে সে বার কংগ্রেসের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মন্ত্রিত্ব তো যায়-ই, সেই সঙ্গে তৃণমূলের সংশ্রবও ত্যাগ করেন হুমায়ুন। তিনি এখন বিজেপি-তে।
এ দিন শুভেন্দু বলেন, “যে যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, মুসলমান মেয়েদের কবর থেকে তুলে এনে ধর্ষণ করা উচিত, লখনৌতে তাঁর বাংলোতে গিয়েই লাঞ্চ করেছিলেন অধীর চৌধুরী। তাঁকে ক্ষমা করবেন না।”
গত ১৪ তারিখ, প্রয়াত তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ মান্নান হোসেনের স্মরণ সভায় গিয়ে শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, অধীরকে হারানোর দায়িত্ব তিনি একার কাঁধে নিচ্ছেন। এমনিতেই কংগ্রেস এবং তৃণমূলের অন্দরে হাওয়ায় ভাসে মালদহের মামা-ভাগ্নি কংগ্রেস সাংসদ তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। সেই প্রশ্ন আরও একবার উস্কে দিলেন শুভেন্দু। বলেন, “কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর বলছেন, বিজেপি-কে রুখতে গেলে আমাদের এগিয়ে এসে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে হবে। আর অধীর চৌধুরীর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটাই কাজ, তৃণমূলের নিন্দামন্দ করা, সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা।”
এ দিন বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তাতেই আসতে হবে তা-ও বলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষকে তারা বিভাজিত করতে চায়। হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলমান, মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুকে লড়াতে চায়। আবার হিন্দুদের মধ্যে আদিবাসী-অআদিবাসী, উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণের মধ্যে লড়াই লাগানোই ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতির একমাত্র পুঁজি।”
শুভেন্দুর এই বক্তব্য নিয়ে অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, “আগের বারও দিদিমণি চেষ্টা করেছিলেন কলকাতার গায়ককে (ইন্দ্রনীল সেন) দিয়ে দাদাকে হারাবেন। পারেননি। এ বারও পারবেন না।”