দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও কিছু ফেলে রাখায় বিশ্বাস করেন না। সমালোচনার জবাব তক্ষুণি দেয় দল। কোথাও বিজেপি সভা করলে, পরদিনই পারলে সেই মাঠে পাল্টা সভা করে তৃণমূল।
কিন্তু রবিবার বাংলায় একুশের ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ধারালো সমালোচনার জবাব দিতে সময় নিল তৃণমূল। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার পর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যসভায় তৃণমূল উপ দলনেতা সুখেন্দু শেখর রায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ একটা রাজনৈতিক সভা করেছেন। সেই সভায় রাজ্যের সম্পর্কে না জেনে অনেক ভুল ও ভিত্তিহীন কথা বলেছেন তিনি। দেশের সমস্যার কথা একটাও বলেননি। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী এমন বলবেন তা আমরা আন্দাজ করেছিলাম। আগে থেকে প্রস্তুতও ছিলাম। শুধু একটা ব্যাপার দেখে বিষ্মিত হলাম যে, দেশে এতো বড় বিপর্যয় ঘটেছে সেদিনও রাজনীতি করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।”
সুখেন্দুবাবু জানান, উত্তরাখণ্ডের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের মন ওখানে পড়ে রয়েছে। এমন দিনে রাজনীতি করা তাঁরা সমীচিন মনে করছেন না। তাই যা জবাব দেওয়ার কাল দেবেন।
এদিন হলদিয়ার সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অবশ্য জোশীমঠের ঘটনার কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতি মুহূর্তে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ রেখে চলছেন। সেনা ও বায়ুসেনা উদ্ধার কাজে নেমে পড়েছে।
তাঁর কথায়—
• “আজ আমরা গঙ্গার একটা তীরে রয়েছি। কিন্তু গঙ্গার উৎপত্তি স্থলে একটা হিমবাহ ভেঙে বিপর্যয় ঘটেছে”।
• “আমি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগে রয়েছি। সেখানে উদ্ধার ও চিকিৎসা পরিষেবায় জোর দেওয়া হয়েছে”।
• “দু তিন দিন আগে সেখানে বৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। মানুষকে বাঁচাতে সরকার পুরোদমে চেষ্টা চালাচ্ছে”।
• “উত্তরাখণ্ডে প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন করে সেনাবাহিনীতে রয়েছে। তাঁদের মানসিক বল প্রবল। তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি”।
সুখেন্দু শেখরবাবুর মন্তব্যের জবাবে এদিন বিজেপি মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, কোথাও বিপর্যয় হলে সেখানে গিয়ে টুল নিয়ে বসে পড়া এখানকার মাননীয়ার অভ্যাস। উনি লোককে দেখানোর চেষ্টা করেন, উদ্ধারকাজে কতটা অ্যাক্টিভ তিনি। তাতে তাঁর নিরাপত্তা ও তাবেদারদের সামলাতে উদ্ধারকারী দলের সমস্যা হয়। উত্তরখাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেখানকার রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথভাবে উদ্ধারের কাজ করছেন। তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। এ নিয়েও রাজনীতি অহেতুক।