দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: ভর্তি প্রক্রিয়া স্বাভাবিকই ছিল এ বার। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, কোথাওই অরাজকতা দেখা যায়নি। কিন্তু কলেজে কলেজে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হতেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেল। কোথাও তৃণমূল বনাম এবিভিপি, কোথাও টিএমসিপি-রই দুই গোষ্ঠী। সোমবার হুগলির খন্নানের বিজয় নারায়ণ কলেজ ও ডায়মন্ড হারবারের ফকিরচাঁদ মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। হুগলিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামাতে হল র্যাফ।
খন্নান কলেজে সোমবারই ছিল প্রথম বর্ষের প্রথম দিনের ক্লাস। দুই সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের পরিচয় পর্ব সারতে উপস্থিত হয়েছিল কলেজে। তা থেকে গণ্ডগোলের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। সঙ্ঘপরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র সংগঠক অপূর্ব ঘোষের দাবি, কলেজের সামনে লাগানো তাদের পতাকা এবং ফ্লেক্স ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা। প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা চালানো হয়। পাল্টা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনে নেতা তুহিন সরকার বলেন, “বিজেপি-র কর্মীরা কলেজে ঢুকে গুণ্ডামি করেছে। কলেজের ছাত্র সংসদের এক পদাধিকারির মোটর সাইকেল ভেঙে দিয়েছে এবিভিপি-র গুণ্ডারা।”
এক কথায় দু’কথায় শুরু হয়ে যায় মারামারি। কলেজের করিডর থেকে তা নেমে আসে রাস্তায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজের সামনে পৌঁছয় পাণ্ডুয়া থানার বিরাট পুলিশবাহিনী। নামানো হয় র্যাফ। গোটা ঘটনায় জখম হয়েছে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় খন্নান প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায়, তাঁকে আনা হয়েছে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে।
অন্য দিকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ফকিরচাঁদ কলেজও এ দিন ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। কলেজের দখল কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে তা নিয়েই গণ্ডগোল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাতেও চারজন জখম হয়েছেন। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে বোমা।
কয়েকদিন আগেই হুগলির ধনেখালির শরৎ সেন্টেনারি কলেজে ব্যাপক ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। আসরে নামতে হয়েছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্রকে। তখনই অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে হওয়ায় কোনও ঝঞ্ঝাট না হলেও, এই বোধহয় শুরু হল! আর হচ্ছেও তাই। এর মধ্যে আরামবাগের নেতাজি কলেজ এবং গোঘাটের বেঙ্গাই কলেজেও ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।