দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তা সংস্কারের দাবিতে টানা আড়াই ঘণ্টার ওপর পথ অবরোধ হল পূর্ব বর্ধমানের পালিতপুরে। পরে পুলিশ এসে রাস্তা সারানোর আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ উঠে যায়। অবরোধকারীরা জানান রাস্তাগুলি খানাখন্দে ভরা এবং চলাচলের অযোগ্য। দীর্ঘ দিন সংস্কার হয়নি। প্রশাসনের নজর কাড়তেই তাঁরা অবরোধ করেছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের পালিতপুরে শিল্পতালুক গড়ে ওঠার পরে একটি লিঙ্ক রোড তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কাটোয়া রোডের সঙ্গে সিউড়ি রোডের সহজে যোগাযোগের কথা ভেবে বছর পনেরো আগে এই রাস্তা তৈরি করা হয়। পালিতপুর শিল্পতালুকে একাধিক স্পঞ্জ আয়রন কারখানা রয়েছে। এই সব কারখানার চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন কাঁচামাল নিয়ে প্রচুর সংখ্যায় ছোট-বড় লরি যাতায়াত করে। পাশাপাশি কারখানার উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীও ওই লিঙ্ক রোডের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানো হয়। নিয়মিত ভাবে এই রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল করার ফলে লিঙ্ক রোডের রাস্তা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন পালিতপুর সহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন তাঁরা বারে বারে ব্লক প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসন – সকলের কাছে দরবার করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, শুকনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছু করা হয়নি প্রশাসনের কোনও স্তর থেকেই। তাঁরা জানিয়েছেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে পিচ তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকে ওই অবস্থায় চার কিলোমিটার রাস্তা পড়ে আছে। পিচ তুলে ফেলায় রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রতিদিনই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। বিভিন্ন সময়ে এই রাস্তায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। তবু হেলদোল নেই প্রশাসনের। তাই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সকাল আটটা- সাড়ে আটটা নাগাদ বিভিন্ন এলাকার মানুষজন একজোট হয়ে পালিতপুরে পথ অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। তাঁরা এলাকার লোকজনকে রাস্তা মেরামতের ব্যাপারে আশ্বাস দিলে বেলা এগারোটার কিছুক্ষণ আগে অবরোধ উঠে যায়।
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, “প্রকৃতির কারণে সংস্কারের কাজ অনেক জায়গায় থমকে গেছে। যে সব জায়গায় এখনই সংস্কার দরকার সেখানে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে যাবে।”