দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক-দুই-তিন করে কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের অনেকেই এ বার চলে এলেন তৃণমূলের সামনের সারিতে।
নির্বাচনের পর শুক্রবার সংগঠন নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নৈহাটির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আরএসএস-এর পাল্টা হিসেবে ব্লকে ব্লকে জয়হিন্দ বাহিনী গড়ে তুলতে। শুক্রবার দলের বৈঠকে জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি ও আহ্বায়ক করা হল মমতার দুই ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে জয়হিন্দের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাত্য বসু এবং ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রনীল সেনকে।
কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠনের কাজ দেখভাল করতেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে অভিষেকের খুব একটা বনিবনা নেই বলেই তৃণমূলের অন্দরে অনেকে বলেন। তার প্রমাণও মিলেছে বারবার। কখনও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিফলেট বিলি করেছেন, কখনও দলীয় সভায় বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিষেক অনুগামীদের সঙ্গে। কিন্তু এ বার দুই ভাইকে সামনের সারিতে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকদিন ধরেই ময়দানের সঙ্গে যুক্ত। বাবুন তো তৃণমূলের স্পোর্টস সেলেরও দায়িত্বে। দাদা অজিত হকি অ্যাসোসিয়েশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ব্লক স্তরে কার্তিক-গনেশ কাজ করলে কখনই সামনের সারিতে ছিলেন না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল নেত্রী এটা ভালই জানেন, আরএসএস-কে রুখতে না পারলে গণভিত্তির ধস ঠেকানো যাবে না। তাই সামনের কথা ভেবেই এই মঞ্চ করার ডাক দিয়েছেন মমতা।
এমনিতে লোকসভায় সংগঠক অভিষেক ডাহা ফেল করেছেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায়। দুই জেলার তিন আসনই খোয়াতে হয়েছে শাসক দলকে। ২৫ তারিখের বৈঠকে অভিষেকের দায়িত্ব কমিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। গোটা জঙ্গলমহলের দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে দিয়ে অভিষেককে দিয়েছিলেন ভোটার লিস্ট দেখার দায়িত্ব। এ দিনের বৈঠকেও যুব সভাপতির কাঁধে অন্য দায়িত্ব আর দিলেন না দিদি।
আরএসএস-এর পাল্টা তৃণমূলের জয়হিন্দ বাহিনী নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “আরএসএস আন প্যারালাল। ওটার বদলে কিছু হয় না। মুখ্যমন্ত্রী যা-ই করুন, যাঁকে ইচ্ছে দায়িত্ব দিন লাভের লাভ কিছু হবে না।”