শেষ আপডেট: 29 April 2020 10:41
কন্টেনমেন্ট জোন বলে ঘোষিত বেলিলিয়াস রোডে কাল রাতভর ছিল পুলিশের পিকেট। এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়। হাওড়া-সহ চারটি থানা এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা হলেও অন্য একাধিক থানা এলাকায় এদিন কড়াকড়ি দেখা যায়। রেড স্টার জোন বলে যে চারটি থানা এলাকাকে ঘোষণা করা হয়েছে তার বাইরেও ব্যাঁটরা, চ্যাটার্জিহাট ও রামরাজাতলা থানা এলাকায় এদিন কোনও বাজার বসেনি। খোলেনি কোনও দোকান। যে এলাকায় গতকাল উন্মত্ত জনতা তাণ্ডব চালিয়েছিল সেই এলাকা তো বটেই, এদিন সকাল থেকে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেছে। নেমেছে র্যাফও।
বিস্তীর্ণ এলাকার দোকানপাট বন্ধ। যে বাজারগুলি তিন দিন পর আজ বুধবার খোলার কথা ছিল সেগুলিও খোলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। বন্ধ মুদিখানার দোকানও। বেলিলিয়াস রোড থেকে দশরথ ঘোষ লেন পর্যন্ত প্রায় সমস্ত মুদিখানা দোকানের বাইরে ফোন নম্বর ঝুলিয়ে দিয়েছেন মালিকরা। একই ছবি দেখা গেছে শিবপুর, মালিপাঁচঘরা, ব্যাঁটরা, রামরাজাতলা ও চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায়।
এদিন হাওড়া শহরের বড় অংশ ছিল বেশ থমথমে। বাজার ফেরি করাও সকাল আটটার পরে সেভাবে দেখা যায়নি। রাস্তার উপরে দুধ ও বেকারির জিনিসও সেভাবে বসতে দেখা যায়নি বুধবার সকালের দিকে। গলির ভিতরে তিনচাকার ভ্যানে বাজার ফেরি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল টিকিয়াপাড়া। লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার কন্টেনমেন্ট জোন বেলিলিয়াস রোডে রাস্তায় নামা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছিল পুলিশকে। এই ঘটনায় দুই মহিলা পুলিশকর্মী সহ চার পুলিশকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দু’টি গাড়ি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে বেলিলিয়াস রোড এলাকাটি হাওড়া থানার অধীন। মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ সেখানে একটি বাজারে ফল কেনা নিয়ে বেশ কয়েক জন লোককে জমায়েত করতে দেখে পুলিশ। এলাকাটিতে সম্পূর্ণ ভাবে লকডাউন চলছে। তার মধ্যে এই অবস্থা দেখে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। তবে ওই যুবকরা সরে না গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু করে এবং তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। লডডাউন উপেক্ষা করে প্রচুর লোক রাস্তায় বেরিয়ে এসে পুলিশের উপরে চড়াও হয়। মারমুখী হয়ে ওঠে। পুলিশ পিছোতে থাকে। তখন পুলিশকে লক্ষ করে ইট ও বোতল ছোড়া শুরু হয়। তাতে দুই পুলিশকর্মী আহত হন। পুলিশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যায়। খবর দেওয়া হয় থানায়। ততক্ষণে ভাঙচুর শুরু হয়ে যায় স্থানীয় ফাঁড়িতে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ব়্যাফ। প্রথমে ব়্যাফকে ঘিরে ধরে জনতা ও পরে তাড়া করে। চলে আসে হাওড়া থানা ও ব্যাঁটরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা রাতেই জানিয়ে দিয়েছিল নবান্ন।