দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ভোররাতে শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্ট। অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে শেষ পর্যন্ত লিলুয়া থানার অন্তর্গত গুহ পার্ক এলাকায় বাড়িতেই এক করোনা রোগীর মৃত্যু হল। অভিযোগ, বারবার ফোন করেও তাঁরা কোনও অ্যাম্বুল্যান্স পাননি।
গুহ পার্ক এলাকার ওই যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই ছিলেন। অভিযোগ, উপসর্গ না থাকায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল বাড়িতেই থাকতে। ভোর রাত থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেন অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য। কিন্তু কোনও ভাবেই তা পাওয়া যায়নি। ভাড়ার গাড়িও যেতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত আজ সোমবার সকালে বাড়িতেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে দুপুর বারোটা নাগাদ পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে পৌঁছন মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য।
মৃতের বোন বলেন, “আমার দাদা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। ভোররাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আমরা ভোর থেকে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু কোনও অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়নি। সত্যবালায় যখন ফোন করি তখন বলে বেড খালি নেই। আজ সকালে কথা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা উঠতে থাকে। তারপরে আর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। মারা গেল আমার দাদা। আগে হাসপাতালেই ভর্তি ছিল। ফিরে এসে স্নান-খাওয়া সবই করেছে। ভোররাতে সমস্যা শুরু হয়।”
মৃতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ থানা, পুরসভা হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও সাহায্য পাওয়া যায়নি। যদিও লিলুয়া থানা ও পুর নিগম সূত্রে জানানো হয়েছে যে তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগই করা হয়নি। হাসপাতালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সকালে মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এলাকা সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে ওই যুবকের বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁদের প্রতিবেশী অশোক দাস বলেন, “হাসপাতালে উনি ওঁর বাবার সঙ্গে ছিলেন দেখাশোনা করার জন্য। আজ সকাল সাতটায় মারা গেছেন।”
হাওড়া জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী জেলায় নতুন করে ২৪৫ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮২৫৭ জন। তবে নতুন করে ২৪২ জন সুস্থ হওয়ায় মোট করোনামুক্তের সংখ্যা ৬০৮১ জন। জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। এখন করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১৯৬৪ জন।