দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেলে তখনও ব্যারাকপুরের নিহত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লর ময়নাতদন্ত শেষ হয়নি, তার মধ্যেই এই খুনের ঘটনায় অন্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
কী বলেছেন ফিরহাদ?
প্রথমত তাঁর অভিযোগ, অর্জুনের চাপেই মণীশ বিজেপিতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, "শ্যুট আউটের আগে অর্জুন গাড়ি থেকে নেমে গেল। এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না সেটা দেখতে হবে।"
প্রসঙ্গত, রবিবার ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের কর্মসূচি ছিল হাওড়ায়। তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন মণীশও। দুপুরে আমতা ও বাউড়িয়ার মাঝে দু'জনে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেন। কর্মসূচি শেষে মণীশ ফিরে যান টিটাগড়ে। অর্জুন যান কলকাতায়। তবে অর্জুন, মণীশ এক গাড়িতে ছিলেন কিনা, কখন কে কোন গাড়ি থেকে.নেমে কোন গাড়িতে উঠেছিলেন সে বিষয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "মণীশ খুব ভাল ছেলে ছিল। আমারও খুব পছন্দের ছিল। তরতাজা প্রাণ চলে গেল।" তিনি আরও বলেন, "মণীশ বিজেপিতে ভাল ছিল না। তৃণমূলে ফিরতে চেয়েছিল।"
রবিবার রাতে আটটা নাগাদ টিটাগড় থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে মণীশকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। বিজেপি ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মণীশ খুনের কিনারা করতে সিআইডিকে দায়িত্ব দিয়েছে নবান্ন।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে তেলিনিপাড়া মোড়ে অঙ্কুর হাসপাতালের সামনে খুন হয়ে গিয়েছিলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ উপাধ্যায়। সেই সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল তৃণমূল। পাল্টা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, মনোজ আরএসএস করা ছেলে। ও বিজেপি-র দিকে পা বাড়াচ্ছিল। সেটা জানতে পেরেই হয়তো তৃণমূল এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কার্যত মণীশ খুনের ঘটনায় একই কথা বললেন ফিরহাদ।