দ্য ওয়াল ব্যুরো: চতুর্থ দফার ভোটের আর ৪৮ ঘণ্টাও বাকি নেই। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সিপিএমের এই পলিটব্যুরোর সদস্য বলেন, “বিজেপি-র জন্যই মুখ্যমন্ত্রী আর ওঁর ভাইপো পাঁচ বছর ধরে বাইরে আছেন।”
প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম-রাম এক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। যখন সূর্যবাবু মেয়োরোডে প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস করছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী হুগলির পাণ্ডুয়ার জনসভা থেকে বলছেন, “সিপিএমের হার্মাদরাই আজ বিজেপি-র ওস্তাদ হয়েছে।” সিপিএম এবং বিজেপি-র মধ্যে আঁতাতের মুখ্যমন্ত্রীর যে অভিযোগ, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এই মন্তব্য করেন সূর্যবাবু।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বলছেন, সিপিএমের উপর ভর করেই বিজেপি বাংলার মাটিতে মাজা সোজা করে দাঁড়িয়েছে। উল্টোদিকে সিপিএমের যুক্তি একেবারে অন্য। বাম নেতাদের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-র স্বাভাবিক বন্ধু। কতবার বিজেপি-র সঙ্গে ঘর করেছেন। সেই ঘর ভেঙে আবার নতুন ঘর বেঁধেছেন। তৃণমূলের জমানাতেই যে বাংলায় আরএসএস তাঁদের এত শাখা বাড়িয়েছে তা-ও খোলামেলা বলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কিন্তু এ দিনের বক্তব্যে একেবারে সোজাসুজি কালীঘাটের দিকেই নিশানা করা হয়েছে।
পঞ্চায়েত ভোটের সময় বেশ কিছু জেলায় সিপিএম-বিজেপি এক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে উপরের দিকের নাম ছিল নদিয়া এবং পুরুলিয়ার। তৃণমূলকে আটকাতে গিয়ে বিজেপি-র হাত ধরা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দলের রাজ্য কমিটির অধিবেশন। দুই রাজ্য কমিটির সদস্যকে ভর্ৎসনা করে আলিমুদ্দিন বুঝিয়ে দিয়েছিল, বিজেপি-র সঙ্গে লড়াইটা মতাদর্শের। সেখানে কোনও আপোস করা হবে না।
বাম নেতৃত্বের অনেকেই মনে করেন, বিজেপি-র পুরনো প্রজন্মের নেতাদের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক অত্যন্ত সাবলীল। যে কারণে মমতা সুযোগ পেলেই আডবাণীর জন্য কেঁদে ওঠেন আর আডবাণী তৃণমূলকে বাঁচাতে নারদ নিয়ে গঠিত এথিক্স কমিটির বৈঠক ডাকেন না।
যদিও সূর্যবাবুর এ দিনের বক্তব্য নিয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তৃণমূল সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “সিপিএম আসলে মাটি খুঁজে না পেয়ে আবোলতাবোল বকছে। গোটা বাংলা দেখছে, মোদীর বিরুদ্ধে যদি কেউ মাথা উঁচু করে লড়াই করছেন, সেটা দিদিই।”
এ দিন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্পর্কেও মন্তব্য করেন সূর্যবাবু। বৈঠকের পর বৈঠক হলেও এ বারের লোকসভায় সরকারি ভাবে ষোলর ভোটের মতো আসন সমঝোতা হয়নি। শুধুমাত্র বহরমপুর আর মালদহ দক্ষিণে প্রার্থী দেয়নি বামেরা। কিন্তু প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার কথায়, “আমি কংগ্রেসকে নিয়ে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করব না। আমরা চাই একসঙ্গে হয়ে লড়তে। বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে এটা দরকার।” রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনগুলিতেও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করার ব্যাপারটি উড়িয়ে দেননি ডাক্তারবাবু।