দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া নিজের হলফনামায় মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়র নাম উল্লেখ করেছেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সোমবার সিবিআই-এর অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজের বক্তব্য হলফনামা আকারে দেশের শীর্ষ আদালতে জমা দেন রাজীব। সেখানে তিনি গত অক্টোবর মাসে ফাঁস হওয়া বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়র অডিয়ো টেপের প্রসঙ্গকে টেনে এনেছেন।
গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর সকালে একটি অডিয়ো টেপ ফাঁস হয়ে যায়। জানা যায় ওই অডিয়ো ক্লিপটিতে যে দু’জনের গলা শোনা যাচ্ছে, তার একটি মুকুল রায়ের এবং অন্যটি সর্বভারতীয় বিজেপি-র তরফে বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র। যদিও সেই ক্লিপের সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। কিন্তু মুকুল রায় সেই সময় স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে, সেটি তাঁর গলা। সেখানে কী কথা শোনা গিয়েছিল? যে কণ্ঠস্বরটি কৈলাসের বলে দাবি করা হয়, সেটিতেশোনা যায়, “আমি এখন অধ্যক্ষজি-র (বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ) সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। কিছু বলতে হবে?” জবাবে মুকুলবাবু তাঁকে বলেন, “চার আইপিএসের ব্যাপারে সিবিআইকে একটু নজর দিতে হবে। এ ব্যাপারে একটু নজর দিলে এই আইপিএস-রা ভয় পেয়ে যাবেন।" সেই সময়েই সিবিআই, রাজীব কুমার-সহ চার আইপিএস অফিসারকে চিটফান্ড কাণ্ডে নোটিস পাঠিয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল।
নিজের হলফনামায় বর্তমান ডিআইজি (সিআইডি) রাজীব ছত্রে ছত্রে লিখেছেন, সিবিআই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছে। সিবিআই শীর্ষ আদালতে আর্জি জানিয়েছিল রাজীব কুমারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা। এরপর কেন গ্রেফতার করা হবে না তা আদালত হলফনামা দিয়ে জানাতে বলে। সেই নির্দেশেই সোমবার হলফনামা দেন রাজীব কুমার।
সিবিআই-এর অভিযোগ, সারদা এবং রোজভ্যালি তদন্তের জন্য রাজ্য সরকার যে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছিল, তার প্রধান হিসেবে রাজীব কুমার তথ্য-প্রমাণ লোপাট করেছেন। মোবাইলের কল রেকর্ড বিকৃত করেছেন। বারবার কল রেকর্ড চেয়েও তা পাওয়া যায়নি। সার্ভিস প্রোভাইডারের থেকে সেই কল রেকর্ড জোগাড় করতে হয় গোয়েন্দাদের। সেই সঙ্গে সিবিআই বারবার ‘লার্জার কনস্পিরেসি’ (বৃহত্তর ষড়যন্ত্র)-র কথা উল্লেখ করেছে। রাজীবের দুই আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এবং বিশ্বজিৎ দেব হলফনামা পেশ করে আদালতে জানান, রাজীব তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জায়গাতেই ছিলেন না। এটা একেবারেই ওই কেসের তদন্তকারী অফিসারের ব্যাপার।
সিবিআই আদালতকে জানিয়েছিল, শিলঙের ম্যারাথন জেরায় রাজীব কুমার কোনও সাহায্য করেননি। তাই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়। এ ব্যাপারে হলফনামায় রাজীব বলেছেন, পাঁচ দিনে চল্লিশ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল । সিবিআই সেই ভিডিয়ো ফুটেজ আদালতে জমা দিক। তা দেখলেই আদালত বুঝতে পারবে যে আদৌ জেরায় সহযোগিতা করা হয়েছিল কি হয়নি।
রাজীব মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে যায় তখন তাৎপর্যপূর্নভাবেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘বিষয়টি খুব খুব গুরুতর।’ তারপর থেকেই হলফনামা এবং পাল্টা হলফনামা দেওয়া শুরু হয় দু’পক্ষের। সোমবার সিবিআই ফের হলফনামা দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় চেয়ে নেয় আদালতের থেকে। আদালত জানিয়েছে ২১ এপ্রিলের মধ্যে এই হলফনামা জমা দিতে হবে সিবিআই-কে। ২২ তারিখ হবে মামলার পরবর্তী শুনানি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজীব কুমার আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন আর অনেকেই আলাদা করে দেখেন না। কারণ সিবিআই-কে ঠেকাতে যে ভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় বসে পড়েছিলেন, তা থেকেই জনমানসে এই ধারনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের মত। উল্টোদিকে মুকুল-কৈলাসের ওই কথোপকথনের অডিয়োকেই এখন হাতিয়ার করছেন রাজীব। বোঝাতে চাইছেন, বিজেপি-র পার্টি অফিস থেকেই কন্ট্রোল করা হচ্ছে সিবিআই-কে। এখন দেখার সিবিআই পাল্টা হলফনামায় কী বলে, আর ২২ তারিখের শুনানিতেই বা কী হয়। কারণ পরের দিন ই তৃতীয় দফার ভোট।