
শেষ আপডেট: 11 November 2020 04:21
অন্যদিকে, ভোর ৩টে ৫মিনিটে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার পরিষেবা চালু হয়। ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহের দিকে রওনা হয় আপ ক্যানিং লোকাল। যাত্রী সংখ্যা ছিল ১১৫ জন। এদিন প্রথম থেকেই সুন্দরবনের প্রবেশ দ্বার ক্যানিং ষ্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষার জন্য ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহ আরপিএফ, জিআরপি পুলিশের সংখ্যা ছিল নজরকাড়া। সাধারণ যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়েন। সব যাত্রীদের মুখে ছিল মাস্ক। তবে হাওড়া এবং শিয়ালদহ দুই স্টেশনেই টিকিট কাউন্টারে ছিল লম্বা লাইন। সেখানে যাত্রীরা কতটা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পেরেছেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সাউথ সেকশনে একগাদা অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন থাকলেও কাজ করছে না একটাও। অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা গোল দাগের ভিতর না দাঁড়িয়ে গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। শুধু তাই নয়, ট্রেন থেকে নামার পর যাত্রীদের যে ঢল আগে দেখা যেত সেই একই ছবি রয়েছে শিয়ালদহ এবং হাওড়ায়। শিকেয় উঠেছে বিধিনিষেধ। 
উল্লেখ্য করোনা আবহে গত ২৩ মার্চ থেকে লোকাল ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়েছিল। টানা ২৩৪ দিন বন্ধ ছিল লোকাল ট্রেন চলাচল। মাঝে কিছু লোকাল ট্রেন অবশ্য চলেছে। তবে তা জরুরি পরিষেবায় কর্মরতদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য। এদিকে ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল হওয়ায় ক্রমশ অফিস, কাছারি খুলতে শুরু করে। কিন্তু বাস, ট্রেন সবই পাল্লা দিয়ে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন নিত্যযাত্রীরা। জরুরি পরিষেবায় কর্মরতদের জন্য চালু হওয়া ট্রেনে সাধারণ মানুষের ওঠা এবং তাতে পুলিশ বাধা দেওয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছিল একাধিক স্টেশনে। তবে শেষ পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালু হওয়ায় স্বস্তিতে আমজনতা। তাড়া আশাবাদী এবার অন্তত গত কয়েকমাসের ভোগান্তির অবসান হবে। 
আজ থেকে চালু হয়েছে বর্ধমান-হাওড়া লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও। স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা। বুধবার ভোররাত থেকেই চলতে শুরু করেছে ট্রেন। বর্ধমান স্টেশনেও বিধিনিষেধ মানার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্টেশনের ঢোকার মুখে করা হচ্ছে থার্মাল স্কিনিং। মাস্ক না থাকলে রেল পুলিশ যাত্রীদের মাস্ক বিলি করছে। ট্রেনের কামরায় কোভিড বিধি মানা হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখছে পুলিশ। এদিন সকাল থেকে দেখা গেছে যাত্রীরা নিজেরাই যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন। দূরত্ববিধি মেনেই সিটে বসেছেন তাঁরা। তবে বেলা গড়ালে যাত্রীদের ভিড় বাড়লে এই সব স্বাস্থ্যবিধি আদৌ কতটা মানা সম্ভব হবে সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ সকলের কাছে। লোকাল ট্রেনের পরিষেবা চালু হয়েছে শিয়ালদহ-রানাঘাট বিভাগেও।
এছাড়া বসিরহাট, হাসনাবাদ ও শিয়ালদা স্টেশনে বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে সকাল থেকেই নিত্যযাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। প্রায় সব স্টেশনেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মুখে মাক্স পরে টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন দিয়েছেন যাত্রীরা। সেই সঙ্গে রয়েছে ট্রেন থেকে নামা যাত্রীর ঢল। ভিড় সামলাতে হিমশিম অবস্থা রেল পুলিশের।
পূর্ব রেলওয়ের শিয়ালদা মেন ও উত্তর শাখায় আজ সকাল থেকে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শিয়ালদা থেকে ব্যারাকপুর, নৈহাটি, কল্যাণী সীমান্ত, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, গেঁদে, শান্তিপুর এবং বনগাঁ ও হাসনাবাদ শাখায় চালু হওয়া ট্রেনগুলিতে ভোরের দিকে যাত্রী সংখ্যা কম হলেও বেলা গড়ালে তা বাড়তে শুরু করে। প্রতিটি স্টেশনেই রেল ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। যাত্রীদের থার্মাল চেকিংয়ের পাশাপাশি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।