দ্য ওয়াল ব্যুরো: শপিংমল খোলা, রেস্তোরাঁ খোলা, মিছিল-মিটিং হচ্ছে, তাহলে করোনার দোহাই দিয়ে বিধানসভা বন্ধ রাখার মানে কী? এই প্রশ্ন তুলেই বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখল এরাজ্যের কংগ্রেস ও বাম পরিষদীয় দল।
বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত দু’পাতার চিঠিতে একাধিক দাবিতে অবিলম্বে বিধানসভা অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হয়েছে। মান্নান সাহেব এবং সুজনবাবু ওই চিঠিতে লিখেছেন, রাজ্যে সব চলছে। রাজনৈতিক দলগুলি মিছিল মিটিং করছে। আপনিও তার অংশীদার। তাহলে বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান করতে অসুবিধা কোথায়?
ওই চিঠিতে বাম-কংগ্রেসের তরফে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, মানুষ যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে, তখন করোনার কারণে জনপ্রতিনিধিদের বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা কি সমীচীন? মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে?
মান্নান-সুজন বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে কৃষিআইন প্রণয়ন করেছে তার বিরুদ্ধে রাজস্থান, ছত্তীসগড়, পাঞ্জাব, কেরলের মতো একাধিক রাজ্য সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রতিষেধক ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করাচ্ছে। অতীতেও যে কেন্দ্রীয় আইনের বিরুদ্ধে বাংলার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হয়েছে তাও মুখ্যমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দুই বিরোধী নেতা।
ধান-সহ অন্যান্য কৃষিজাত দ্রব্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে বাম ও কংগ্রেস পরিষদীয় দল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে এও বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সভা থেকে এমন এমন ঘোষণা করছে যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের বাজেটের মধ্যে নেই। তাহলে কি এটা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে না?
সুজনআবুদের বক্তব্য, বাজেটে যদি অর্থের সংস্থানই না থাকে তাহলে কি আকাশ থেকে টাকা আসবে? আর যদি অন্য খাতের থেকে টাকা কেটে নতুন প্রকল্পে দেওয়া হয় তার জন্যও আলোচনা প্রয়োজন।
বাম-কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, ওদিকে দিল্লির সরকার যে ভাবে সংসদকে বাইপাস করে সব করতে চাইছে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরকারও একই কাজ করছে।