দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনিস খানের মৃত্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার আবেদন জমা পড়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার দুুপুরে সেই মামলা জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ। আনিসের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ কী, কে বা কারা এই ঘটনায় জড়িত, তদন্ত কোন পথে এগোচ্ছে ইত্যাদি জানতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। আজ বেলা ২টোর সময় ছিল শুনানি। আদালত সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছে।
ছাত্রনেতা আনিস খানের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দাবি এমনটাই। শুক্রবার মাঝরাতে তিনতলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ছাত্রনেতা আনিস খানের। সে সময় আনিসের বাড়িতে এসেছিল চারজন, তাদের মধ্যে তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ারের পোশাকে ছিল ও অন্যজন পুলিশের খাকি উর্দিতে। আনিসের বাবা সালেম খানের অভিযোগ, ওই চারজন তাঁকে আটকে রাখে। আনিসকে বারান্দা থেকে ছুড়ে ফেলে দেয় নীচে। আনিসকে খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ পরিবারের। বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে আনিসের মৃত্যু হয়েছে নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছে, পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারের পোশাকে কারা এসেছিল বাড়িতে, পুলিশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখতেই আদালতে মামলা করা হয়।
আনিসের পক্ষে এদিন আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি জানান, আনিসের বাবার মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ছেলেকে খুন করা হয়েছে। বিচারপতি তাতে প্রশ্ন করেন, আনিসকে কেন খুন করা হবে? আইনজীবীর বক্তব্য, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্র আনিস খান। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণআন্দোলনে শামিল হয়েছেন তিনি। এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। করোনার সময় উলুবেড়িয়া হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছিলেন। তাই তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে আনিসের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ঝুলছিল, একটিতে তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল। এদিন আদালতে সওয়াল করার সময় আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আনিস কোনওরকম বেআইনি কাজে জড়িত ছিলেন না। পরিকল্পিতভাবেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ সঠিক তদন্ত করছে না বলেই আদালতে দাবি করেছেন বিকাশবাবু। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টে আনিসের পরিবারের সদস্যদের চাকরির লোভ দেখানো হচ্ছে। মৃত ছাত্রনেতার পরিবারের কী কী অভিযোগ রয়েছে তা লিখিত আকারে জমা করার নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। তিনি জানান, আগামীকালের মধ্যে আনিসের পরিবারের সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে আদালতে পেশ করতে হবে। এই রিপোর্টের একটি কপি রাজ্য সরকারকেও পাঠাতে হবে।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।