দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারও কর্নাটকে দু’জন কংগ্রেস বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। এ ভাবে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার যখন ক্রমশই সংকটে পড়ছে তখন বিজেপি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভের মুখ খুলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যম থেকেই কর্নাটকের ঘটনাক্রম সম্পর্কে জানতে পারছি। বিজেপি-র এত লোভ কেন? এই তো ক'দিন আগে ভোট হয়ে গেল। বিজেপি-র উচিত দেশের ভালর জন্য কাজ করা। কিন্তু তা সব দখল করতে নেমে পড়েছে।”
তৃণমূলনেত্রী বলেন, “বিধানসভা অধিবেশন চলছে। কংগ্রেস পার্টি, সিপিএম পার্টি এবং আমাদের পার্টি-- সবাই মিলে আমরা এর নিন্দা করছি।” তাঁর কথায়, “এত দম্ভ কীসের? এই আচরণ একটা হেডলেস প্রন না লেগলেস চিকেনের জানি না! তবে এটা বলতে পারি, গোটা বিশ্বে ভারতের গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট। আমাদের সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সবই এখন সংকটে পড়েছে।”
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=gkN9M3IFf5M&feature=youtu.be
কর্নাটকে কংগ্রেস বিধায়ক ভাঙার নেপথ্যে যে বিজেপি-র হাত রয়েছে সে ব্যাপারে বিরোধী দলগুলি সবাই একমত। যদিও বিজেপি-র প্রবীণ নেতা তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছর কর্নাটকে ভোটের পর থেকেই যেন-তেন-প্রকারে সেখানে সরকার গঠনে মরিয়া। সে বার তাদের চেষ্টা ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু লোকসভা ভোটের পরই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ইয়েদুরাপ্পারা। যে হেতু কংগ্রেস-জেডিএসের তুলনায় বিজেপি-র আসন সংখ্যার ফারাক বেশি নয়, ফলে কংগ্রেস থেকে বিধায়ক ভাঙিয়ে ভোটাভুটির পরিসরটা ছোট করে দিতে চাইছে বিজেপি। কংগ্রেসের অভিযোগ, এ জন্য টাকার ফোয়ারা ছোটাচ্ছে গেরুয়া শিবির।
তবে মমতার এ কথা নিয়েই খুঁত ধরতে চেয়েছেন বাংলার কংগ্রেস নেতারা। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্তমানে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “কর্নাটকে বিজেপি যে গণতন্ত্রকে খুন করছে সংশয় নেই। তবে এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাঁদুনি গাইছেন তা ওঁর মুখে মানায় না। আমাদেরও প্রশ্ন ছিল, তৃণমূলের এতো লোভ কেন? ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল যখন কংগ্রেস, সিপিএমের বিধায়কদের ভাঙাতে নেমে পড়েছিল, তখন বাংলায় গণতন্ত্রকে কোন মগডালে তুলে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” অধীরবাবুর কথায়, গণতন্ত্রের পক্ষে বিজেপি যতটা বিপজ্জনক, তৃণমূলও ততটাই ক্ষতিকর। ভাল ব্যাপার হল, যে তা সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পারছেন।