
শেষ আপডেট: 26 August 2023 02:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুরে হোস্টেল থেকে পড়ে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে র্যাগিং-এর কথাই উঠে এসেছে (JU student death ragging)। সূত্রের খবর, ১৪০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেখানে র্যাগিং তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছে তদন্ত কমিটি। হস্টেলে যে সিনিয়র ছাত্রদের হাতে নিয়মিত ভয়ঙ্কর র্যাগিং-এর শিকার হতে হয় জুনিয়রদের, সেকথা উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত রিপোর্টে।
বস্তুত, কমিটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই একাধিকবার র্যাগিং-এর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে মেন হস্টেল পড়ুয়াদের কাছে ছিল রীতিমতো বিভীষিকা। মারধর, নগ্ন করে ইন্ট্রো দেওয়া, বারান্দার সরু রেলিং-এর উপর দিয়ে হাঁটানো থেকে শুরু করে আরও কত কী। হস্টেলেরই সিঁড়ির দেওয়ালে গ্রাফিত্তির মাধ্যমে বিড়াল থেকে বাঘ হওয়ার পাঠ দেওয়া হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বয়েজ হোস্টেলে তুলনায় গার্লস হোস্টেলের নিয়মে রীতিমতো কড়াকড়ি রয়েছে (security and rules)। রাত ১০টার মধ্যে সেখানে হস্টেলে ঢোকা বাধ্যতামূলক। কোনও কারণে যদি ফিরতে দেরি হয়, তাহলে তা হোস্টেল সুপারকে আগেভাগেই জানাতে হয়। এমনকী, হস্টেলে ঢোকা-বেরোনোর ক্ষেত্রে রেজিস্টার খাতায় নাম লেখারও নিয়ম রয়েছে। পুরুষ বন্ধু কিংবা অভিভাবকদের সেখানে ঢোকা কিংবা থাকার নিয়ম নেই। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মা এবং বোন এসে থাকতে পারেন।
এমনকী, বয়েজ হস্টেলে যেমন সুপারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, এখানে তেমনটা নয়। মেন হোস্টেলের সুপার জানিয়েছিলেন, তিনি ওই হস্টেলের আবাসিকদের রীতিমতো সমঝে চলতেন। তাঁর যখন তখন টহল দেওয়া ছাত্ররা একেবারেই পছন্দ করত না। উল্টে, চুরির কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত। তবে গার্লস হস্টেলে সুপারের কড়া শাসনে থাকেন ছাত্রীরা। তিনি মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ ভিজিটেও আসেন। কোনও অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোটকথা নিরাপত্তা দিক থেকে যাদবপুরের গার্লস হস্টেলের ব্যবস্থা বয়েজ হস্টেলের তুলনায় অনেকটাই আঁটোসাঁটো।
উল্লেখ্য, বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে মারধরের কথা উঠে এসেছে। ২ সপ্তাহ তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে র্যাগিং-এর শিকার হয়েছিল বগুলার ওই ছাত্র। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। র্যাগিং রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে এক প্রকার ব্যর্থ, সে কথাই প্রকারান্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
যাদবপুর কাণ্ডে সামনে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, হোতা ছিলেন সৌরভ! ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করে মারধর, দাবি পুলিশের