
শেষ আপডেট: 13 December 2022 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: টানা আট বছর ধরে বন্ধ হিন্দুস্থান মোটর (Hindustan Motors) কারখানা। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার বিড়লাদের এই বন্ধ কারখানার ৩৯৫ একর অব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার সেই জমির ফিজিক্যাল পজেশন, অর্থাৎ বাস্তবে দখল নেওয়ার কথা ছিল সরকারের (Administration)। এর জন্য হুগলির জেলাশাসক সহ ভূমি রাজস্ব দফতরের প্রতিনিধিদের হিন্দুস্থান মোটর কারখানায় যাওয়ার কথা আগাম জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হল না। মঙ্গলবার বিড়লাদের (Birla) কারখানার ফিজিক্যাল পজেশন নেওয়ার কাজ স্থগিত রাখল প্রশাসন।
এই বিষয়ে হুগলির জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া জানান, স্থানীয় কিছু সমস্যা থেকে যাওয়ায় ফিজিক্যাল পজেশন নেওয়ার কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরে আলোচনা করে নতুন দিন ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, হিন্দুস্থান মোটরের কোথায় কত জমি অধিগ্রহণ করা হবে তা চিহ্নিত করার কাজ শেষ। ফিজিক্যাল পজেশন না নিলেও সেই জমিতে এবার সরকারি বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনা হল, বিড়লাদের এই গাড়ি কারখানায় সাতশো একরের বেশি জমি আছে। তার মধ্যে তিনশো একর জমিতে বেঙ্গল শ্রীরাম আবাসন গড়ে তুলেছে। কিছু জমি জুড়ে আছে টিটগড় ওয়াগনের রেলের কোচ তৈরির কারখানা। বাকি জমি পড়ে আছে। তার মধ্যে থেকেই ৩৯৫ একর অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গত জুলাই মাসে এখানেই টিটাগড় ওয়াগনের অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী বন্ধ কারখানার জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তারপরই জমি অধিগ্রহণে তৎপর হয় রাজ্য।
১৯৪৮ সালে উত্তরপাড়ায় হিন্দুস্থান মোটরের অ্যাম্বাসাডার গাড়ির পথচলা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন সাফল্যের সঙ্গে পথ চলার পর ২০১৪ সালে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝোলায় মালিক পক্ষ। সেসময় প্রায় ২৩০০ শ্রমিক ছিল কারখানায়। অনেক আন্দোলন, প্রতিবাদেও কারখানার গেট আর খোলেনি। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে কারখানা ছেড়ে চলে যান। হিন্দুস্থান মোটরের অব্যবহৃত জমি জঙ্গলে ভরে যায়। তবে রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আশার আলো দেখছে এখনও থেকে যাওয়া শ্রমিক পরিবারগুলো।
যদিও সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর পক্ষ থেকে মণীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, কারখানার জমিতে কারখানাই গড়তে হবে তবেই সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করব আমরা। টিটাগড় ওয়াগন হিন্দুস্থান মোটরের অতিরিক্ত জমি নিতে চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, কারখানার জমিতে কারখানাই গড়বে রাজ্য সরকার। যে কারখানা গড়বে তাকেই অধিগ্রহণ করা হিন্দুস্থান মোটরের ৩৯৫ একর জমি দেওয়া হবে।