
শেষ আপডেট: 29 September 2022 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কালিম্পং: মেঘের রাজ্য ঝান্ডি পাহাড়। ৬২০০ ফুট উচ্চতায় এই পাহাড়েই এবার শোনা যাচ্ছে আগমনীর সুর। মায়াবী এই পরিবেশে এই প্রথম শারদীয় দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন কলকাতার বাসিন্দা শুভম পোদ্দার। ঝান্ডি পাহাড়ে হোম-স্টে আছে তাঁর। কাজের সূত্রে বছরের বেশিরভাগ সময়ে পাহাড়ে থাকতে হয় বলে কলকাতার পুজো দেখা হয়ে উঠছিল না। তাই এবার পাহাড়েই দেবীর বোধনের (Durga Pujo 2022) প্রস্তুতি নিয়ে ফেললেন তিনি।
কৈলাশ পাহাড়ে ঘর সংসার মা দুর্গার। এমনটাই বিশ্বাস। প্রতি শরতে ছেলে মেয়েদের সঙ্গে করে সেখান থেকেই মর্ত্যে নেমে আসেন তিনি। বাঙালি তখন মেতে ওঠে উৎসবে। এবার পাহাড়ের মানুষদের উৎসবে সামিল করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেললেন শুভম।
কালিম্পং (Kalimpong) জেলার গরুবাথান ব্লকের পাহাড় ঘেরা ছোট্ট গ্রাম ঝান্ডিতে শুভমের হোম-স্টে। কটেজটিকে নিজের বাগানবাড়ি বলতেই পছন্দ করেন তিনি। তার কথায়, “ছোটো থেকেই পাহাড়ের কোলে একটা বাড়ি করার শখ ছিল। কিছু টাকা জমিয়ে পাহাড়েই বানিয়ে ফেললাম শখের এই 'বাগানবাড়ি'। অতিথিদের কাছে হোম স্টে হলেও আমার কাছে এই বাড়ি আমার শান্তির ঠিকানা।” এবার সেই ঠিকানাতেই দুর্গাপুজোর আয়োজন।
প্রতিমা আনা হয়েছে মালবাজার থেকে। পুরোহিত আসছেন ধূপগুড়ি থেকে। ঢাকিরা আসছে কলকাতা লাগোয়া জেলা থেকে। কলকাতার শিল্পীদের নিয়ে পুজোয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছেন শুভম। অষ্টমীতে গোটা পাহাড়ের মানুষ ও পর্যটকদের ভোগের খিচুড়ি বিলি করারও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পাহাড়ে পুজো আয়োজনের খরচ সমতলের প্রায় দ্বিগুণ হলেও উৎসাহী কোনও খামতি নেই শুভমবাবুর। বললেন, “ভাবুন তো, ৬২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ- কুয়াশায় ঢাকা দুটি পাহাড়ের মাঝে যখন ঢাক বেজে উঠবে, পুরোহিতের দরাজ গলায় সংস্কৃত মন্ত্র ধ্বনিত হবে তখন কেমন মায়াবী পরিবেশ তৈরি হবে!”
পুজো আয়োজনে তাঁর সঙ্গে মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন স্থানীয় হিরান ছেত্রী, দোরজি শেরপা, মানেতা ছেত্রী, রাজু শেরপারা। মালবাজার থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট দুটি গ্রাম ঝান্ডি ও সুন্তালেখোলা। গোটা চল্লিশেক পরিবারের বাস সেখানে। বাসিন্দাদের জীবিকা বলতে এলাচ ও ঝাড়ুর চাষ। সঙ্গে পশুপালন। তাঁদের কথায়, ইচ্ছে থাকলেও এখানকার মুষ্টিমেয় কিছু লোকের পক্ষে এতদিন পাহাড়ের এত ওপরে পুজো আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। প্রতিবার দুর্গাপুজোর সময় যখন সমতলের মানুষ আনন্দে মেতে উঠতেন তখন বিষণ্ণ সন্ধ্যা কাটত তাঁদের। কিন্তু এবার দুর্গাপুজোয় ছবিটা বদলে যাবে পুরোপুরি।
মানুষের অস্তিত্ব ঠিক কোথায়? দক্ষিণদাড়ির মণ্ডপে গেলেই মিলবে উত্তর!