
শেষ আপডেট: 19 August 2020 09:43
সাধারণত উঁচু অথবা মাঝারি উঁচু উর্বর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা হয়। ড্রাগন ফল সাধারণত তিন প্রজাতির হয়ে থাকে- প্রথম প্রজাতিটি লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া। এর খোসার রঙ লাল ও শাঁস সাদা। এই লাল ড্রাগন ফলই বেশি দেখতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য প্রজাতি কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। এর খোসা ও শাঁস উভয়ের রঙই লাল। তিন নম্বরে রয়েছে হলুদ রঙের ড্রাগন ফল। এই জাতের ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের ও শাঁসের রঙ সাদা।
এই তিনটি প্রজাতির পাশাপাশি বর্তমানে কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত ড্রাগন ফলের নতুন জাতটি হল ‘বারি ড্রাগন ফল-১। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপি রঙের, লাল আর সাদা এবং রসালো প্রকৃতির। ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম। একেক একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
খাদ্যগুণ বা পুষ্টির দিক থেকেও ড্রাগন ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ফল ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত। এছাড়াও রয়েছে ফ্যাট, ক্যারোটিন, প্রচুর ফসফরাস, এসকরবিক অ্যাসিড, প্রোটিন , ক্যালসিয়াম এবং আয়রন। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে জল ৮০-৯০ গ্রাম, শর্করা ৯-১০ গ্রাম, প্রোটিন ০.১৫-০.৫ গ্রাম, আঁশ ০.৩৩-০.৯০ গ্রাম, খাদ্যশক্তি- ৩৫-৫০ কিলোক্যালরি, চর্বি ০.১০-০.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬-১০ মিলিগ্রাম ,আয়রন ০.৩-০.৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৬-৩৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় এই ফল চোখ ভালো রাখে, আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় হজম শক্তিতে সহায়তা করে, এছাড়া এই ফলের ফাইবার-সমৃদ্ধ আঁশ শরীরের চর্বিও কমায়। এর পাশাপাশি ড্রাগন ফলে বিদ্যমান প্রোটিন শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কাজে সহায়তা করে। এই ফলে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও দাঁত মজবুত রাখে। ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
এমন ফলের উৎপাদন যদি আশাপ্রদ হয় তবে সুন্দরবনের অর্থনীতির উপর তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে বাধ্য বলেই মনে করছেন কৃষক সংঘ।