Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অপরিচিতকেও চিনিয়ে দেবে মেটার ‘স্মার্ট গ্লাস’! অপরাধ বাড়তে পারে, বিপদ দেখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলিপ্রথম পর্বে দেখা হবে না রাম-রাবণের! ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের মন ভেঙে দিলেন ‘টক্সিক’ যশনববর্ষ উদযাপনের মাঝেও মনখারাপ! দিনের শুরুটা কীভাবে কাটালেন ঋতুপর্ণা?গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল?

উমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শুরু হল ড্রাগন ফলের চাষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : আয়লা ও উমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিতে নতুন সাফল্য আনতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হল। প্রাথমিকভাবে বাসন্তী ব্লকের চুনাখালিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হল এই ফলের চাষ। দিশারী কৃষক সংঘের উদ্যোগ

উমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শুরু হল ড্রাগন ফলের চাষ

শেষ আপডেট: 19 August 2020 09:43

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : আয়লা ও উমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিতে নতুন সাফল্য আনতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হল। প্রাথমিকভাবে বাসন্তী ব্লকের চুনাখালিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হল এই ফলের চাষ। দিশারী কৃষক সংঘের উদ্যোগে চুনাখালিতে রোপন করা হল ১৩০০টি ড্রাগন ফলের গাছ। সুন্দরবনের বুকে এমন উদ্যোগ এই প্রথম। ড্রাগন ফল চাষে সফল হলে অর্থনৈতিক ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সুন্দরবন। এমনটাই আশা। সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের কৃষকরা অন্যান্য চাষের পাশাপাশি ড্রাগন চাষের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি-গবেষকেরা। সুন্দরবনের কৃষকদের মধ্যে বিকল্প চাষ হিসাবে ড্রাগন চাষকে আকর্ষণীয় করে তুলতে দিশারী কৃষক সংঘের এই অনন্য উদ্যোগ। এমনটাই জানালেন সংঘের উদ্যোক্তা বিষ্ণুপদ প্রধান। তিনি বলেন, ‘‘এলাকায় প্রায় এক একর জমির উপর ১৩০০টি ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে পরিচর্যা করার পর গাছে ফল ধরবে। সাধারণত এই ড্রাগন ফল বাজারে কেজি প্রতি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। শহরের ক্রেতাদের মধ্যে এ ফলের চাহিদাও যথেষ্ট। আর্থিক সাফল্য এলেই বিকল্প চাষ হিসাবে সুন্দরবনের চাষিদের মুখে হাসি ফোটাবে ড্রাগন ফল।’’ এই ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাতের চারা আনা হয়। ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ, যা সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই গাছে কোনও পাতা থাকে না। সাধারণত উঁচু অথবা মাঝারি উঁচু উর্বর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা হয়। ড্রাগন ফল সাধারণত তিন প্রজাতির হয়ে থাকে- প্রথম প্রজাতিটি লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া। এর খোসার রঙ লাল ও শাঁস সাদা। এই লাল ড্রাগন ফলই বেশি দেখতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য প্রজাতি কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। এর খোসা ও শাঁস উভয়ের রঙই লাল। তিন নম্বরে রয়েছে হলুদ রঙের ড্রাগন ফল। এই জাতের ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের ও শাঁসের রঙ সাদা। এই তিনটি প্রজাতির পাশাপাশি বর্তমানে কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত ড্রাগন ফলের নতুন জাতটি হল ‘বারি ড্রাগন ফল-১। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপি রঙের, লাল আর সাদা এবং রসালো প্রকৃতির। ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম। একেক একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। খাদ্যগুণ বা পুষ্টির দিক থেকেও ড্রাগন ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ফল ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত। এছাড়াও রয়েছে ফ্যাট, ক্যারোটিন, প্রচুর ফসফরাস, এসকরবিক অ্যাসিড, প্রোটিন , ক্যালসিয়াম এবং আয়রন। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে জল ৮০-৯০ গ্রাম, শর্করা ৯-১০ গ্রাম, প্রোটিন ০.১৫-০.৫ গ্রাম, আঁশ ০.৩৩-০.৯০ গ্রাম, খাদ্যশক্তি- ৩৫-৫০ কিলোক্যালরি, চর্বি ০.১০-০.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬-১০ মিলিগ্রাম ,আয়রন ০.৩-০.৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৬-৩৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় এই ফল চোখ ভালো রাখে, আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় হজম শক্তিতে সহায়তা করে, এছাড়া এই ফলের ফাইবার-সমৃদ্ধ আঁশ শরীরের চর্বিও কমায়। এর পাশাপাশি ড্রাগন ফলে বিদ্যমান প্রোটিন শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কাজে সহায়তা করে। এই ফলে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও দাঁত মজবুত রাখে। ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমন ফলের উৎপাদন যদি আশাপ্রদ হয় তবে সুন্দরবনের অর্থনীতির উপর তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে বাধ্য বলেই মনে করছেন কৃষক সংঘ।

```